অবসরের পর আয়ের উৎস নিয়ে চিন্তিত? স্টক মার্কেট বা মিউচুয়াল ফান্ডের ঝুঁকি নিতে ভয় পাচ্ছেন? তবে আপনার জন্য সেরা সমাধান হতে পারে সরকারি ভরসাযোগ্য স্কিম সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম (SCSS)। এখানে এককালীন টাকা গচ্ছিত রাখলেই আপনি প্রতি মাসে ঘরে বসেই পেতে পারেন ২০,৫০০ টাকা পর্যন্ত নিশ্চিত আয়।
কেন এই স্কিমটি সেরা? ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকের আপডেট অনুযায়ী, এই স্কিমে বার্ষিক ৮.২% হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে। ভারতের যেকোনো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসে এই অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব।
২০,৫০০ টাকার ম্যাজিক হিসাব: এই স্কিমে বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা ৩০ লক্ষ টাকা। একনজরে দেখে নিন আয়ের অঙ্ক:
মোট বিনিয়োগ: ৩০ লক্ষ টাকা।
বার্ষিক সুদ: ২,৪৬,০০০ টাকা।
প্রতি ৩ মাসের আয়: ৬১,৫০০ টাকা।
মাসিক গড় আয়: ২০,৫০০ টাকা। এই টাকা সরাসরি আপনার সেভিংস অ্যাকাউন্টে চলে আসবে, যা দিয়ে দৈনন্দিন খরচ অনায়াসেই মেটানো সম্ভব।
কারা এবং কীভাবে আবেদন করবেন?
বয়সসীমা: সাধারণ নাগরিকদের জন্য ৬০ বছর। প্রতিরক্ষা কর্মীদের জন্য ৫০ এবং ভিআরএস (VRS) গ্রহণকারীদের জন্য ৫৫ বছর।
প্রয়োজনীয় নথি: আধার কার্ড, প্যান কার্ড, বয়সের প্রমাণপত্র এবং ছবি।
ট্যাক্স সুবিধা: আয়কর আইনের ৮০সি (80C) ধারায় ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কর ছাড় পাওয়া যায়। তবে সুদের অঙ্ক বছরে ৫০ হাজার টাকা পেরোলে টিডিএস (TDS) কাটা হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রবীণরা ফর্ম ১৫এইচ (15H) জমা দিয়ে ট্যাক্স বাঁচাতে পারেন।
অন্যান্য সুবিধা:
মেয়াদ: এই স্কিমের মেয়াদ ৫ বছর। ম্যাচিউরিটির পর চাইলে আরও ৩ বছর বাড়ানো যায়।
নমিনি সুবিধা: অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের মৃত্যু হলে পেনাল্টি ছাড়াই পুরো টাকা নমিনি ফেরত পান।
জরুরি টাকা তোলা: এক বছর পর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে টাকা তোলা যায়, তবে সেক্ষেত্রে সামান্য পেনাল্টি প্রযোজ্য।
বিনিয়োগ পরামর্শ: বাজারের অনিশ্চয়তার যুগে প্রবীণদের জন্য এর চেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ আর কিছু হতে পারে না। আপনি যদি জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট খোলেন, তবুও বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা ৩০ লক্ষ টাকাই থাকবে। তাই নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য আজই নিকটবর্তী পোস্ট অফিস বা ব্যাঙ্কে যোগাযোগ করুন।





