মার্চ মাসেই ছিল দীর্ঘ কর্মজীবনের ইতি। ৩৬ বছর পুলিশি উর্দিতে দেশসেবা করার পর বাড়ি ফিরে নাতি-নাতনিদের সঙ্গে সময় কাটানোর কথা ছিল ৫৭ বছর বয়সি জগদীশ প্রসাদের। কিন্তু ভবিতব্য ছিল অন্য। ফরিদাবাদের সূর্যকুণ্ড মেলায় ‘সুনামি দোলনা’ ভেঙে পড়ার ঘটনায় অকাল মৃত্যু হলো এই কর্তব্যপরায়ণ পুলিশ আধিকারিকের। কেবল প্রাণ হারানোই নয়, মৃত্যুর শেষ মুহূর্তেও তিনি অন্যদের বাঁচাতে গিয়েই বীরের সম্মান অর্জন করলেন।
উত্তরপ্রদেশের মথুরার বাসিন্দা জগদীশ প্রসাদ ১৯৮৯ সালে হরিয়ানা পুলিশে যোগ দেন। শনিবার সন্ধ্যায় যখন মেলার মাঠে বিশালাকার ওই নাগরদোলনাটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে, চারদিকে আর্তনাদ শুরু হয়। নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে দুই মহিলা কনস্টেবলকে নিয়ে আহতদের উদ্ধার করতে ছুটে যান তিনি। সেই সময়ই দোলনার একটি ভারী অংশ সরাসরি তাঁর মাথায় এসে পড়ে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ২০১৯-২০ সালে সরকারি মেডেল জয়ী এই পুলিশকর্তার।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ১৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর মেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেন দোলনাটির ফিটনেস সার্টিফিকেট যাচাই করা হয়নি, সেই নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সুখের সংসার ছিল জগদীশের। তাঁর এই অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা পুলিশ বিভাগ। মাত্র কয়েকটা দিন পরেই যিনি হাসিমুখে অবসর নিতেন, আজ তাঁর নিথর দেহ ফিরছে বাড়িতে।