ইনদওরের ব্যবসায়ী রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলায় প্রতি মুহূর্তে নতুন মোড় নিচ্ছে তদন্ত। মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে স্বামী রাজাকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগে অভিযুক্ত স্ত্রী সোনম রঘুবংশী অবশেষে পুলিশের জেরার মুখে ভেঙে পড়েছেন। প্রাথমিক অস্বীকারের পর তিনি নিজেই এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন, যা সমগ্র ঘটনাকে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।
প্রেমিকের মুখোমুখি, অকপটে স্বীকারোক্তি:
মেঘালয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোনমের প্রেমিক রাজ কুশওয়াহাকে তার সামনে নিয়ে আসার পরই তিনি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন। প্রেমিককে দেখে প্রথমে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলেও, পুলিশের লাগাতার এবং সুকৌশল জেরার মুখে সোনম নিজের অপরাধ স্বীকার করতে বাধ্য হন। এটি মামলার তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রক্তমাখা প্রমাণ ও জেরা:
শিলং পুলিশের মুখোমুখি করা হলে সোনমের রক্তমাখা জ্যাকেট, রেইনকোট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত তার সামনে আনা হয়। এই প্রমাণগুলো নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সোনম কিছুক্ষণ নীরব ছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি স্বীকার করেন যে, স্বামী রাজা রঘুবংশীকে খুন করতে তিনি তিন ভাড়াটে খুনি – আকাশ রাজপুত, বিশাল ওরফে ভিকি ঠাকুর এবং আনন্দ কুর্মির সাহায্য নিয়েছিলেন। এই স্বীকারোক্তি মামলার পূর্বপরিকল্পনার দিকে ইঙ্গিত করছে।
পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, নতুন তথ্য:
পুলিশি তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জানা গেছে, সোনম খুনের পুরো ঘটনাটি তার প্রেমিক রাজকে মুহূর্তের পর মুহূর্ত জানাচ্ছিলেন। সে কোথায় যাচ্ছে, কে তার সঙ্গে রয়েছে – সবকিছুই রাজকে জানানো হচ্ছিল। পুলিশ আরও নিশ্চিত করেছে যে, বিয়ের পরপরই সোনম এবং রাজ মিলে রাজা রঘুবংশীকে খুনের পরিকল্পনা করেছিল। এটি নিছকই একটি আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং একটি সুচিন্তিত এবং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পুলিশ আরও জানিয়েছে, সোনম তার শাশুড়িকে উপবাসের বিষয়ে মিথ্যা বলেছিলেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র মেঘালয় রেলস্টেশন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, যা এই পরিকল্পনারই অংশ।
প্রথম সন্দেহ ও সূত্র:
রাজা রঘুবংশীর হত্যাকাণ্ডকে প্রাথমিকভাবে একটি নিখোঁজ মামলা বলে মনে করা হয়েছিল। তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র থেকে পুলিশ খুনের বিষয়ে নিশ্চিত হয়। রাজার শেষ ফোন কল, ট্যুর গাইড এবং সোনমের মঙ্গলসূত্র – এই তিনটি বিষয়ই তদন্তকারীদের মনে প্রথম সন্দেহ জাগায়। এরপরই সোনম এবং আরও চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। ট্যুর গাইড পুলিশকে জানিয়েছেন, ২৩শে মে সকালে তিনি সোনম ও রাজার কাছে তিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে দেখতে পান।
মঙ্গলসূত্র থেকে রহস্য উন্মোচন:
সোনম ও রাজা যে হোটেলে ছিলেন, সেখানে তদন্ত চালিয়ে সোনমের মঙ্গলসূত্র এবং একটি আংটি উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল ডিএনআর মারাক জানিয়েছেন, মধুচন্দ্রিমার সময় নববধূর মঙ্গলসূত্র না থাকাটাই প্রথম সন্দেহ তৈরি করে। গত ১১ই মে ইনদওরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন সোনম এবং রাজা। বিয়ের মাত্র দশ দিন পরে পূর্ব খাসি পাহাড়ের সোহরার একটি জলপ্রপাতের কাছে একটি গভীর গিরিখাত থেকে রাজার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনাটি গোটা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তে নতুন নতুন দিক উন্মোচিত হচ্ছে।





