অফিস টাইমের মাঝেই নন্দনে উপচে পড়া ভিড়, কেন কাউকে না জানিয়েই এলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

সিনেমার উৎসবের ষষ্ঠতম দিন, সপ্তাহের ব্যস্ততম দিন মঙ্গলবার। কিন্তু ভিড় দেখে নন্দন চত্বরে তার কোনো আঁচই পাওয়া গেল না। দুপুরের পর থেকেই ভিড় বাড়তে বাড়তে সন্ধ্যায় তা চরম আকার নেয়। এই চরম ব্যস্ততার কারণ—মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’।

নন্দনে এসে উৎসব পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি আজ কাউকে না জানিয়েই এসেছি। এটা সারপ্রাইজ ভিজিট বলতে পারেন। অনেক পুরনোদিনের আড্ডা জমল আজ। অনেক পুরনো কথা শেয়ার করলাম।” এই নস্ট্যালজিক মুহূর্তকে তিনি ‘সিনে-আড্ডা’ বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, “সবসময় তো সবাই কাজেই ব্যস্ত থাকে। এই সময়ে আসলে অনেককে পাওয়া যায়। নন্দন হয়ে যায় মিলন মেলা।”

বাংলা দেখাক পথ: মুখ্যমন্ত্রী সকল সিনেপ্রেমী এবং সিনেমার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের ‘শুভ নন্দন’ জানিয়ে বলেন, “প্রতি বছরই ফেস্টিভ্যাল বড় হচ্ছে। সিনেমার সংখ্যা যত বাড়বে ততই গর্বিত হবে বাংলা। ততই বাড়বে কর্মসূচী। আমরা চাই দেশ বা বিদেশ সকলকেই পথ দেখাক বাংলা। আশা করি আগামী বছর আরও ছবি আসবে। আমি চাই এই কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকেই বাংলা এই দেশকে পথ দেখাক। সবাইকে আপন করে নিক।” নর্থ বেঙ্গল থেকে এসে কিছু কাজ সেরে এসেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “দেখি আরেকদিন আসব এখানে।”

সাংবাদিক সম্মেলনে না গেলেও প্রেস কর্নারে তখন চলছিল ডা. রুদ্রজিৎ রায়ের সিনেমা ‘পিঞ্জর’-এর সাংবাদিক সম্মেলন। সেখানে পরিচালক সহ মল্লিকা বন্দ্যোপাধ্যায় রায়, জয় সেনগুপ্ত, ঈশান মজুমদার, সাগ্নিক মুখোপাধ্যায়, শতাক্ষী নন্দী, রাতুল শঙ্কর ঘোষ সহ অন্যান্য কুশীলবেরা উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী উৎসবের উত্তরোত্তর উন্নতি কামনা করে নন্দন চত্বর থেকে বেরিয়ে যান।

আজকের (১২ নভেম্বর) বিশেষ প্রদর্শনী:

শিশির মঞ্চ: বিকেল ৪টেয় ‘ঋত্বিক ঘটক মেমোরিয়াল কনভার্সেশন’।

রবীন্দ্র সদন: সন্ধে ৬:৩০ মিনিটে সুমন মৈত্রর ‘অ2’।

রাধা স্টুডিয়ো: সন্ধে ৬:৩০ মিনিটে ‘পড়শি’ এবং সকাল ১১টায় রাজা মিত্রকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘নয়নতারা’।

নজরুল তীর্থ ২: দুপুর ২টোয় ঋত্বিক ঘটকের ‘সুবর্ণরেখা’।

একতারা মুক্তমঞ্চে: ‘গানে গানে সিনেমা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ‘পাশ্চাত্য সুর থেকে অনুপ্রাণিত সিনেমার গান’।

শিশির মঞ্চ (বিশেষ প্রদর্শনী): সকাল ১১টায় ‘দ্য ক্রনিকল অফ দ্য ফরগটন জেনোসাইড- দ্য কিসিঞ্জার ডকট্রিন’।