অফিসের ডেস্কে বসা অবস্থায় তরুণীকে ২০ বার কোপ! প্রাক্তন প্রেমিকের নৃশংসতায় স্তব্ধ মোহালি

পাঞ্জাবের মোহালিতে এক বেসরকারি সংস্থার অফিসে ঘটে গেল এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। সহকর্মী তথা প্রাক্তন প্রেমিকের হাতে নৃশংসভাবে খুন হলেন এক তরুণী। অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়া এই ঘটনার বীভৎসতা দেখে শিউরে উঠেছে গোটা দেশ। বৃহস্পতিবার সন্ধেয় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোহালির সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত তরুণীর নাম ডিম্পল এবং অভিযুক্তের নাম হরবিন্দর মান ওরফে হ্যারি। দুজনেই পাঞ্জাবের পাতিয়ালার বাসিন্দা। মোহালির একটি ‘প্যাকার্স অ্যান্ড মুভার্স’ সংস্থায় গত তিন বছর ধরে তারা একসঙ্গে কাজ করছিলেন। কাজের সুবাদেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তবে কিছুদিন আগেই তাদের ব্রেক-আপ হয়ে যায়। সহকর্মীদের দাবি, হ্যারি বারংবার ডিম্পলকে সম্পর্ক জোড়া লাগানোর জন্য চাপ দিচ্ছিল, কিন্তু ডিম্পল সেই প্রস্তাবে সায় দেননি। এই প্রত্যাখ্যানই সম্ভবত হ্যারির মনে চরম আক্রোশের জন্ম দেয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধে ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ ডিম্পল যখন অফিসের ডেস্কে বসে কাজ করছিলেন, সেই সময় হ্যারি আচমকাই অফিসে ঢুকে পড়ে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পেছন থেকে এসে সে অতর্কিতে ডিম্পলের ওপর চড়াও হয়। নিজের প্রাণ বাঁচাতে তরুণী অফিসের দরজার দিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও হ্যারি তাঁকে চুলের মুঠি ধরে টেনে হিঁচড়ে মেঝেতে আছড়ে ফেলে। এরপর পাশবিক উন্মত্ততায় তরুণীর শরীরে কুড়ি বারেরও বেশি ধারালো অস্ত্রের কোপ বসায় সে। অফিসের অন্য সহকর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও হ্যারির আগ্রাসী মনোভাব দেখে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পিছু হঠতে বাধ্য হন।
ডিম্পলের নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে হ্যারি স্থির থাকতে পারেনি। এরপর সে নিজেই নিজের ওপর আক্রমণ চালায়। নিজের গলায় পরপর প্রায় ৩০ বার ছুরি চালায় সে। ঘটনার খবর পেয়েই মোহালি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় ফোর্টিস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা ডিম্পলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত হ্যারি আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্তমানে হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং প্রত্যাখ্যানই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে তথ্যপ্রমাণ ও নমুনা সংগ্রহ করেছে। ঠিক কী মানসিক অবস্থায় হ্যারি এই চরম পথ বেছে নিল, নাকি এর নেপথ্যে আরও কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। শুক্রবার নিহত তরুণীর ময়নাতদন্তের পর ঘটনার আরও বিস্তারিত জানা যাবে। এই ঘটনা কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার প্রশ্নটিকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।