পহেলগাঁও হামলার প্রতিশোধ নিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর এবার শুরু হয়েছে ‘অপারেশন মহাদেব’। এই অভিযানে সোমবার শ্রীনগরের অদূরে ৩ জন জঙ্গিকে নিকেশ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে পহেলগাঁও হামলার মূল হোতা বৈসরন উপত্যকায় হামলাকারী হাশিম মুসা ওরফে সুলেমান শাহ বলে দাবি করেছে ভারতীয় সেনা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তান, নিহত জঙ্গিদের ‘নিরপরাধী’ বলে অভিহিত করেছে ইসলামাবাদ।
ভারতীয় সামরিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত ২২ এপ্রিলের পহেলগাঁও হামলার মূল পরিকল্পনাকারী সুলেমান ওরফে আসিফকে সেনাবাহিনী ঘিরে ফেলেছিল। সেনাবাহিনী সূত্র মারফত জানতে পারে যে পহেলগাঁও হামলায় জঙ্গিদের ব্যবহৃত স্যাটেলাইট ফোনটি আবার ব্যবহার করা হচ্ছে। এই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই শুরু হয় ‘অপারেশন মহাদেব’। এই অভিযানে সুলেমান ছাড়াও আরও দুই জঙ্গিকে নিকেশ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি M4 কার্বাইন রাইফেল, দুটি AK রাইফেল এবং অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধার করেছে সেনা। পহেলগাঁও হামলায় ২৫ জন পর্যটক ও একজন কাশ্মীরি প্রাণ হারিয়েছিলেন, যা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।
পাকিস্তানের অভিযোগ: ‘ভুয়ো এনকাউন্টার’ ও ‘নিরীহ পাকিস্তানি’ হত্যা
অন্যদিকে, পাকিস্তান এই অভিযানকে ‘ভুয়ো এনকাউন্টার’ বলে অভিহিত করেছে এবং নিহত জঙ্গিদের ‘নিরপরাধী’ দাবি করেছে। পাক সংবাদপত্র ‘ডন’ তাদের প্রতিবেদনে পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে যে, “অপারেশন মহাদেবের নামে ভারত ভুয়ো এনকাউন্টার করছে।” তারা আরও দাবি করেছে যে, নিরীহ পাকিস্তানিদের বলপূর্বক আটক করে তাদের জঙ্গি বলে অভিহিত করা হচ্ছে এবং এনকাউন্টারে হত্যা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের নিউজ চ্যানেল ৩৬৫ প্লাস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, ‘অপারেশন মহাদেব’ নামে ভারত ‘নিরপরাধ’ পাকিস্তানিদের ব্যবহার করছে।
জানা গেছে, নিহত লস্কর-এ-তৈবার জঙ্গি সুলেমান পাক সেনাবাহিনীর এলিট ইউনিট স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপের একজন প্রাক্তন কমান্ডো ছিল। সুলেমান ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুপ্রবেশ করে দক্ষিণ কাশ্মীরে জঙ্গি কার্যকলাপে জড়িত ছিল।
কাশ্মীরে পাক নাগরিকদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন:
পাকিস্তানের এই অভিযোগ সত্ত্বেও, কাশ্মীরের জঙ্গলে একজন পাক নাগরিক স্যাটেলাইট ফোন এবং অস্ত্রের বিশাল ভাণ্ডার নিয়ে কী করছিল, সে বিষয়ে অবশ্য পাকিস্তানি সংবাদপত্র বা সংবাদমাধ্যম কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি।
পাক সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ চৌধুরী শরিফ দাবি করেছেন যে, ৭২৩ জন পাকিস্তানি নাগরিক ভারতীয় কারাগারে বন্দি। তবে, ওই ৭২৩ জন পাক নাগরিক কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে পৌঁছালেন, সে বিষয়ে পাক সেনাবাহিনী কোনও তথ্য জানায়নি। জিও নিউজ দাবি করেছে যে, এনকাউন্টার তত্ত্ব প্রমাণ করার জন্য ভারতীয় সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই জঙ্গিদের ছবি এবং উদ্ধার করা অস্ত্রের ছবি প্রকাশ করেছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি ৫৬ জন পাকিস্তানিকে আটক করেছে বলেও জানা গেছে, তবে এই পাকিস্তানিরা কীভাবে ভারতীয় সীমান্তে পৌঁছাল, সে বিষয়েও তারা মুখ খোলেনি।
কাশ্মীরে জঙ্গি দমনের ভারতীয় অভিযান এবং পাকিস্তানের পাল্টা অভিযোগ, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করেছে।