অন্য পরিচয়ে বিয়ে করে ধর্মান্তকরণের চাপ! কলকাতার নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে পুলিশের দ্বারস্থ নির্যাতিতা গৃহবধূ

বসিরহাটের মহুয়া সরকার এক চাঞ্চল্যকর ও হাড়হিম করা অভিযোগ নিয়ে বর্তমানে সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘ আট বছর আগে এক ব্যক্তি নিজের প্রকৃত ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং পরবর্তীতে তাঁকে বিয়ে করে। কিন্তু বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই সেই ছদ্মবেশী যুবকের আসল রূপ বেরিয়ে আসে এবং সামনে আসে তার প্রকৃত ধর্মীয় পরিচয়। এরপর থেকেই শুরু হয় চরম মানসিক অত্যাচার, শারীরিক নির্যাতন এবং ইসলাম ধর্মে রূপান্তরিত হওয়ার জন্য লাগাতার প্রবল চাপ সৃষ্টি। দীর্ঘ আট বছর ধরে এই অকথ্য ও ভয়াবহ যন্ত্রণা মুখ বুজে সহ্য করার পর অবশেষে সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি কলকাতা শহরে এসে পৌঁছান এবং একটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

প্রাপ্ত তথ্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিয়ের প্রাথমিক দিনগুলিতে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও ধীরে ধীরে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যেতে শুরু করে। মহুয়ার অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামী এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে দিনের পর দিন শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। শুধু তাই নয়, মুসলিম ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে এই পারিবারিক ও সামাজিক হিংসার শিকার হয়ে তিনি চরম অসহায়তার মধ্যে দিন কাটিয়েছেন। তবে গত কয়েক দিন আগে পরিস্থিতি সমস্ত মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে তিনি সাহসের সঙ্গে স্বামীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন এবং সোজা কলকাতায় এসে আশ্রয় নেন।

কলকাতায় পৌঁছানোর পর তিনি বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে থানায় গিয়ে সম্পূর্ণ ঘটনার বিবরণ দিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মহুয়ার এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পর ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে এবং ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে। ছদ্মবেশ ধারণ করে বিয়ে করা এবং তারপর ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বসিরহাট সহ গোটা রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সমাজে এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।