অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে শুভেন্দুকে কুণালের কড়া আক্রমণ! ‘বালিশ চাটা’ মন্তব্য ঘিরে উত্তাল রাজনৈতিক মহল

রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে তরজা যেন থামার নামই নিচ্ছে না। এবার অন্নপূর্ণা যোজনা এবং সরকারি প্রকল্পের রূপায়ণ নিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি নিশানা করলেন প্রবীণ তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। একই সঙ্গে অতীতে যাঁদের সঙ্গে শুভেন্দুর গভীর রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা ছিল, বর্তমান সময়ে তাঁদের প্রকাশ্যেই তীব্র সমালোচনা করতে দেখা যাচ্ছে শাসক শিবিরের এই হেভিওয়েট নেতাকে। কুণাল ঘোষের এই বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন কুণাল। তাঁর দাবি, রাজ্যের জনপ্রিয় ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের সাফল্যের সঙ্গে তুলনা টানলে এই নতুন যোজনার কার্যকারিতা অনেকটাই ফিকে হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, আক্রমণ শাণিত করে তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন যে, একসময়ে যাঁরা বিরোধী নেতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলয়ের মধ্যে ছিলেন, আজ পরিস্থিতির চাপে তাঁরাই বা কেন একে অপরকে কাঠগড়ায় তুলছেন, তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে। কুণালের এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতি হিসেবেই শাসক ও বিরোধী শিবির উভয় পক্ষই একে অপরকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে নারাজ। অন্নপূর্ণা যোজনার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো নিয়ে ইতিমধ্যেই বিরোধী শিবিরের তরফে নানান প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছে। তবে কুণাল ঘোষের এই তীক্ষ্ণ আক্রমণ সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ও স্বচ্ছতা নিয়েই বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। বিরোধী দলনেতার আপ্তসহায়ক সংক্রান্ত বিভিন্ন বিতর্কিত মামলার আবহে কুণালের এই ধরনের আক্রমণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
অন্যদিকে, কুণালের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকেও পাল্টা আক্রমণ শানানো হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রাজ্য সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতেই কুৎসা ও অপপ্রচারের আশ্রয় নিচ্ছে শাসক দল। সাধারণ মানুষ সমস্ত বিষয় স্পষ্টতই বুঝতে পারছেন এবং সঠিক সময়ে এর উপযুক্ত জবাবও দেবেন। সবমিলিয়ে, অন্নপূর্ণা যোজনা এবং লক্ষ্মীর ভান্ডারের প্রসঙ্গ টেনে দুই শিবিরের এই রাজনৈতিক দড়িটানাটানি আগামী দিনে আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।