অনিল আম্বানির নেতৃত্বাধীন রিলায়েন্স গ্রুপের বিরুদ্ধে ২০০৬ সাল থেকে ৪১,৯২১ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ তুলল কোবরাপোস্ট নামের এক পোর্টাল। কোবরাপোস্টের দাবি, রিলায়েন্স গ্রুপ বিভিন্ন অফশোর স্থানে, যেমন সিঙ্গাপুর, মরিশাস এবং ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের মাধ্যমে এই বিপুল অঙ্কের তহবিল সরিয়েছে।
কোবরাপোস্টের তদন্তে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত গ্রুপ সংস্থাগুলি—বিশেষত রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস, রিলায়েন্স ক্যাপিটাল, রিলায়েন্স হোম ফাইন্যান্স—থেকে প্রায় ২৮,৮৭৪ কোটি টাকা ব্যাঙ্ক ঋণ, আইপিও এবং বন্ডের মাধ্যমে সংগ্রহ করে প্রমোটার-সংযুক্ত সংস্থাগুলিতে সরানো হয়েছে। এর পাশাপাশি, ১.৫৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৩,০৪৭ কোটি টাকা) অতিরিক্ত অর্থ সিঙ্গাপুর, মরিশাস, সাইপ্রাস ও ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের মতো অফশোর সংস্থাগুলির নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ‘অবৈধভাবে’ ভারতে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রিপোর্টে কোম্পানিজ অ্যাক্ট, ফেমা, পিএমএলএ, সেবি অ্যাক্ট এবং আয়কর আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এমনকী, কর্পোরেট তহবিলের অপব্যবহার করে ২০০৮ সালে অনিল আম্বানির জন্য ২০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি ব্যক্তিগত ইয়ট কেনার অভিযোগও করা হয়েছে। কোবরাপোস্টের দাবি, এই তদন্ত কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রক, সেবি, এনসিএলটি এবং আরবিআই-এর মতো সংস্থার সরকারি নথি ও আদেশের উপর ভিত্তি করে তৈরি।
তবে, রিলায়েন্স গ্রুপ এই অভিযোগকে সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা এটিকে “শেয়ারের দাম কমানোর উদ্দেশ্যে চালিত একটি বিদ্বেষপূর্ণ প্রচার” এবং “কর্পোরেট হিট জব” বলে খারিজ করেছে। রিলায়েন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযোগগুলি ‘পুরনো এবং জনসমক্ষে উপলব্ধ তথ্যের’ উপর ভিত্তি করে তৈরি, যা সিবিআই, ইডি এবং সেবি-এর মতো সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই পরীক্ষা করেছে। রিলায়েন্স গ্রুপ অভিযোগ করেছে, এটি তাদের, অনিল আম্বানি এবং ৫৫ লক্ষ শেয়ারহোল্ডারের বিরুদ্ধে একটি মানহানি ও চরিত্র হননের অভিযান, যার লক্ষ্য শেয়ার বাজারে আতঙ্ক তৈরি করে গ্রুপের সম্পদগুলি সস্তায় অধিগ্রহণ করা। রিলায়েন্স প্রতিদ্বন্দ্বী কর্পোরেটদের বিরুদ্ধে শেয়ারের ট্রেডিং প্যাটার্ন তদন্তের জন্য সেবি-তে অভিযোগও দায়ের করেছে।





