অনলাইন বিনিয়োগের হাতছানি এখন ঘরে ঘরে। শেয়ার বাজার থেকে মিউচুয়াল ফান্ড, নানা প্ল্যাটফর্মে লাভের আশায় মানুষ ঝুঁকছেন বিনিয়োগে। কিন্তু এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একদল প্রতারক চক্র। সম্প্রতি কলকাতা ও তার আশেপাশে এমন একাধিক প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে লোভনীয় প্রস্তাবের ফাঁদে পড়ে বহু মানুষ নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ খুইয়েছেন। এমনই এক ঘটনার শিকার হলেন বিধাননগরের এক মহিলা, যিনি ইউটিউবে একটি বিনিয়োগের বিজ্ঞাপন দেখে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা খোয়ালেন।
মাসখানেক আগে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসেই এই ঘটনার অভিযোগ দায়ের হয়েছিল বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায়। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। অবশেষে এল সাফল্য। এই অনলাইন বিনিয়োগ প্রতারণা চক্রের দুই মূল পান্ডাকে গ্রেফতার করেছে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানা। শনিবার রাতেই তাদের ট্রানজিট রিমান্ডে রাজ্যে নিয়ে আসা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মহিলা তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেছেন যে তিনি ইউটিউবে একটি বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন দেখেন। বিজ্ঞাপনে দেওয়া একটি নম্বরে ফোন করার পর অপরপ্রান্তে থাকা এক ব্যক্তি তাঁকে বিনিয়োগের বিভিন্ন দিক বোঝান। এরপর তাঁকে একটি বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে বিনিয়োগ শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়। মহিলা সেই পরামর্শ মেনে অ্যাপের মাধ্যমে টাকা বিনিয়োগ করেন। প্রথমদিকে অ্যাপে তাঁর বিনিয়োগ করা অর্থ ঠিকঠাক দেখানো হচ্ছিল, কিন্তু যখনই তিনি সেই টাকা তুলতে যান, তখনই বাধে বিপত্তি। তাঁকে জানানো হয়, টাকা তোলার জন্য আরও কিছু অর্থ জমা দিতে হবে। ধাপে ধাপে তিনি মোট ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা জমা দেন। কিন্তু এত টাকা জমা দেওয়ার পরও সেই অর্থ তিনি আর তুলতে পারেননি। এরপরই তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশের দ্বারস্থ হন।
এই ঘটনা আবারও সাধারণ মানুষকে অনলাইন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বার্তা দিচ্ছে। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বারবার সাবধান করছেন, কোনওরকম লোভনীয় প্রস্তাব বা সহজে মোটা অঙ্কের লাভের প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস না করতে। বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্ল্যাটফর্মের সত্যতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। দেশের নামকরা ও নিয়ন্ত্রিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি ছাড়া অন্য কোনও অজানা প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ করার আগে দ্বিতীয়বার ভাবা উচিত। নয়তো সর্বস্ব হারানোর সম্ভাবনা থেকেই যায়।