২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বড়সড় আইনি ধাক্কা খেল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সরকারি কলেজের সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করার যে সিদ্ধান্ত কমিশন নিয়েছিল, তা খারিজ করে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ। এবার সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তড়িঘড়ি আদালতের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হল কমিশন।
আদালতে কেন ধাক্কা খেল কমিশন? সম্প্রতি ওয়েস্ট বেঙ্গল গভর্নমেন্ট কলেজ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তাঁদের দাবি ছিল, ২০১০ সালের নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সার্কুলার অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের শিক্ষক এবং গ্রুপ-এ পদমর্যাদার অফিসারদের কোনো বিশেষ বা অনিবার্য কারণ (Specific reasons to be recorded) ছাড়া প্রিসাইডিং অফিসার বা পোলিং ডিউটিতে নিয়োগ করা যায় না।
বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে মামলাটি উঠলে আদালত কমিশনের কাছে জানতে চায়, কেন এই অধ্যাপকদের বুথে ডিউটি দেওয়া হয়েছে? এর স্বপক্ষে কোনো জোরালো নথি বা ‘অনিবার্য কারণ’ দেখাতে পারেনি কমিশন। বিচারপতি উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, “এভাবে চললে তো আপনারা বিচারপতিদেরও পোলিং অফিসার করে দেবেন।” শেষ পর্যন্ত সিঙ্গল বেঞ্চ অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগের নির্দেশটি খারিজ করে দেয়।
কমিশনের পালটা যুক্তি সিঙ্গল বেঞ্চের এই রায় কার্যকর হলে নির্বাচনের আগে বড়সড় কর্মী সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছে কমিশন। তাদের দাবি, আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল রাজ্যে ভোটগ্রহণ। প্রায় ৯০ হাজার বুথের জন্য বিশাল সংখ্যক কর্মীর প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে অধ্যাপকদের অব্যাহতি দিলে ভোট পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এই যুক্তি টেনেই মামলাটি এখন ডিভিশন বেঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
অধ্যাপকদের অবস্থান আবেদনকারী অধ্যাপকদের আইনজীবী জানিয়েছেন, তাঁরা ভোট দিতে অস্বীকার করছেন না, কিন্তু তাঁদের পদমর্যাদা এবং বেতনক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজ দেওয়া হোক। প্রিসাইডিং অফিসারের পদের জন্য যে ধরনের প্রশাসনিক কাজ করতে হয়, তা অধ্যাপকদের উপযুক্ত নয় বলেই তাঁদের দাবি।
এখন দেখার, ডিভিশন বেঞ্চ কমিশনের এই আবেদন গ্রহণ করে কি না, নাকি সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ই বহাল থাকে। এর ওপর নির্ভর করছে ভোটের দিন বুথের ব্যবস্থাপনায় বড় কোনো রদবদল হবে কি না।





