অদম্য জেদ আর পরিশ্রমের ফল, অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্কে বাজিমাৎ পূর্ব মেদিনীপুরের প্রান্তিকের

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়ার দক্ষিণ মেচোগ্রামের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে বড় সাফল্য পেল প্রান্তিক মণ্ডল। সদ্য প্রকাশিত NEET 2026-এর সর্বভারতীয় পরীক্ষায় প্রান্তিক প্রায় ৩০০০ র‍্যাঙ্ক অর্জন করে নিজের ও পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করেছে। তার এই সাফল্য এলাকায় খুশির জোয়ার নিয়ে এসেছে।

প্রান্তিকের বাবা পেশায় একজন গৃহশিক্ষক। ছোটবেলা থেকেই অভাব-অনটনকে খুব কাছ থেকে দেখলেও প্রান্তিকের অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মেনেছে সব বাধা। মাধ্যমিকে সাফল্যের পর থেকেই তার লক্ষ্য ছিল ডাক্তার হওয়া। সেই স্বপ্ন পূরণেই সে রাজস্থানের কোটায় বিখ্যাত ‘অ্যালেন কোচিং সেন্টার’-এ ভর্তি হয়। বাইরের রাজ্যে একা থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়, কিন্তু প্রান্তিক সেই কঠিন পথই বেছে নিয়েছিল।

তার সাফল্যের মন্ত্র হলো নিয়মানুবর্তিতা। দিনের নির্দিষ্ট একটা সময় সে পড়াশোনার জন্য বরাদ্দ রাখত। শুধু পড়াশোনা নয়, মানসিকভাবে নিজেকে সতেজ রাখতে প্রান্তিক ছোটবেলা থেকেই সংগীতচর্চার সঙ্গে যুক্ত। সে মনে করে, সংগীত তার পড়ায় একাগ্রতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছে। পড়াশোনা ও শখের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই সে আজ এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে।

অ্যালেন কোচিং-এর শিক্ষক-শিক্ষিকারাও প্রান্তিকের এই সাফল্যে গর্বিত। তারা জানিয়েছেন, প্রান্তিক শুরু থেকেই খুব মেধাবী এবং প্রতিটি বিষয়ে খুঁটিনাটি শেখার বিষয়ে সে অত্যন্ত আগ্রহী ছিল। পরীক্ষার আগে যে মানসিক চাপ থাকে, তাও সে খুব শান্তভাবে মোকাবিলা করেছে।

প্রান্তিক এই সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়েছে তার বাবা-মা এবং শিক্ষকদের। সে আগামী দিনে একজন আদর্শ চিকিৎসক হয়ে আর্তমানবতার সেবা করতে চায়। দক্ষিণ মেচোগ্রামের এই ছেলেটির সাফল্য আজকের প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের কাছে এক বড় প্রেরণা। প্রান্তিকের অদম্য জেদ এবং স্বপ্ন জয়ের এই কাহিনী প্রমাণ করে, সঠিক দিশা এবং পরিশ্রম থাকলে প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব।