‘ফির হেরা ফেরি’ সিনেমায় বিপাশা বসুর চিট ফান্ডের রমরমাই হয়তো মনে করিয়ে দেয়, কীভাবে লোভ মানুষকে সর্বস্বান্ত করতে পারে। সেই সতর্কবার্তা বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনও প্রচার করে। কিন্তু এই সমস্ত সাবধানবাণী কানে না তুলেই প্রতারণা চক্রে পা দিয়েছিলেন গোবরডাঙার সুশোভন মণ্ডল। প্রায় সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা খুইয়ে এখন তিনি আংশিক স্বস্তি পেয়েছেন বারাসত সাইবার পুলিশের তৎপরতায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, কয়েক মাস আগে একটি অজানা নম্বর থেকে ফোন আসে সুশোভনের কাছে। ফোনের ওপারে থাকা ব্যক্তি তাকে ট্রেড ইনভেস্টমেন্টে টাকা খাটালে স্বল্প সময়ে তা দ্বিগুণ করে দেওয়ার লোভনীয় প্রস্তাব দেন। প্রথমদিকে কিছু টাকা বিনিয়োগ করে সুশোভন মুনাফাও পান। এতে তার বিশ্বাস বাড়ে। এরপর দফায় দফায় প্রায় ১২ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিনিয়োগ করেন তিনি।
কিন্তু যখন তিনি মুনাফাসহ আসল টাকা ফেরত চাইতে যান, তখনই তার কাছে চাওয়া হয় আরও প্রায় ২০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করার কথা। এই কথা শুনেই সুশোভন বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপর গত ১২ই মার্চ তিনি বারাসত সাইবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে, সুশোভন যে অ্যাকাউন্টগুলোতে টাকা পাঠিয়েছেন, সেগুলো অন্য রাজ্য থেকে পরিচালিত হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত চালিয়ে পুলিশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে এবং সেখান থেকে প্রায় ৪,৫১,৩৬০ টাকা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে সুশোভনের হাতে এই পুনরুদ্ধার করা টাকা তুলে দেওয়া হয় পুলিশের তরফে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বাকি টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। একই সাথে এই ঘটনায় ভিন রাজ্যের কোনো বড় প্রতারণা চক্র জড়িত আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সুশোভন মণ্ডল এখন অন্যদেরও সতর্ক করছেন, যাতে “অতি লোভে তাঁতি নষ্ট” প্রবাদটি আর কারও জীবনে অভিশাপ হয়ে না দাঁড়ায়।