আমেরিকা হামলা চালাতেই হরমুজ নিয়ে বড় বার্তা মোদির! পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে কী কথা হল?

আমেরিকার হামলা ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই আরও একবার আলোচনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানের বার্তা দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এসসিও সম্মেলন এবং এসসিও প্লাসের বৈঠকের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন তিনি। বিদেশমন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সমুদ্রপথে নিরাপত্তার বিষয়টিতেই এদিনের বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের ঠিক আগেই দীর্ঘ ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সাময়িক যুদ্ধবিরতি ভেঙে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের রকেট লঞ্চারকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। গত এক মাসের মধ্যে এটাই আমেরিকার প্রথম বড় সামরিক পদক্ষেপ। এর জবাবে তেহরানও যোগ্য জবাব দেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ফেব্রুয়ারি মাসের পর প্রথমবার মুখোমুখি হন মোদি ও পেজেশকিয়ান।
এর আগে সংঘাতের জেরে একাধিকবার ফোনে দুই নেতার আলোচনা হলেও এদিনের বৈঠকে ভারতের পুরনো অবস্থানকেই ফের জোরালোভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং স্পষ্ট জানিয়েছেন যে যে কোনো সমস্যার সমাধান কেবল আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।
পাশাপাশি, সমুদ্রপথে নাবিকদের নিরাপত্তা এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষার বিষয়টি বৈঠকে বিশেষভাবে উঠে আসে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে সমুদ্রপথে ভারতীয় নাবিকদের একাধিকবার বিপদের মুখে পড়তে হয়েছে, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সমুদ্রপথে নিরুপদ্রব যাতায়াতের দাবি আরও একবার জোরালো করলেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে ইরান যুদ্ধ চায় না বলে স্পষ্ট করলেও তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছিল যে হামলা হলে তার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে, বিশ্ব রাজনীতি ও রণক্ষেত্রের এই চরম উত্তেজনার মাঝে বিশকেকের এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশারদরা।