অগ্নিকাণ্ড থেকে বিমানে মৃত্যুর হাতছানি! ককপিটেই বড় বিপদের মুখে কীভাবে জীবন বাঁচালেন পাইলট?

মুম্বইয়ের আকাশে এক বড়সড় বিমান দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার ঘটনাটি বর্তমানে সারা বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এই রোমহর্ষক ঘটনার পর ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মित মাছাড়কে বিশ্বজুড়ে এক ‘হিরো’ হিসেবে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। এই কঠিন পরিস্থিতির সাক্ষী থাকা এবং তাঁর সঙ্গে অতীতে কাজ করা সহকর্মী টিনা গোস্বামী সম্প্রতি আইএএনএস-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সেই ভয়ংকর মুহূর্তগুলির স্মৃতিচারণা করেছেন। তিনি জানান, যখন প্রথম এই ঘটনার খবর তাঁর কানে পৌঁছায়, তখন তাঁর মনে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছিল যে সব ঠিক আছে তো? কারণ এটি কোনো সাধারণ ঘটনা ছিল না, বরং অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও মারাত্মক এক পরিস্থিতি ছিল।

সাধারণত পাইলটদের প্রশিক্ষণ ও জরুরি পরিস্থিতিতে টিমওয়ার্ক বা ক্রু কোঅর্ডিনেশনের ওপর জোর দেওয়া হয়। কিন্তু এই বিশেষ ঘটনার ক্ষেত্রে বিপদটি বাইরে থেকে আসেনি, বরং বিমানের একেবারে ভেতর থেকে তৈরি হয়েছিল, যা সকলকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। টিনা गोस्वामी জানান, খবর পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে সবাই এক প্রকার মানসিক ধাক্কা খেয়েছিলেন। তবে পরে যখন জানা গেল যে ক্যাপ্টেন মাছাড় নিজের জীবন বাজি রেখে পরিস্থিতি সামলেছেন এবং বহু মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন, তখন সবাই এক অদ্ভুত স্বস্তি পান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মারাত্মকভাবে আহত হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন মাছাড় নিজের শেষ শক্তি দিয়ে ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করেছিলেন, যাতে যাত্রীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছানোর সামান্যতম সুযোগও তৈরি হতে পারে।

এই চরম মুহূর্তে তাঁর এই উপস্থিতি বুদ্ধি এবং তৎক্ষণাৎ সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাই প্রায় ১৭৫ থেকে ১৮০ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়েছে এবং একটি ভয়াবহ জাতীয় বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের শেষের দিকে ফ্লাইট ডিসপ্যাচ অফিসে ক্যাপ্টেন মাছাড়ের সঙ্গে টিনার একাধিকবার সাক্ষাৎ হয়েছিল। তাঁকে একজন অত্যন্ত ভদ্র, বিনয়ী এবং দায়িত্বশীল সহকর্মী হিসেবে স্মরণ করে টিনা বলেন যে, একজন ভালো পাইলট কেবল তাঁর ওড়ার দক্ষতায় নন, বরং তাঁর আচরণ এবং সহকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমেই প্রকৃত অর্থে মহৎ হয়ে ওঠেন। ক্যাপ্টেন মাছাড়ের এই অসামান্য সাহসিকতা আজ গোটা দেশের বিমান চালক সমাজ তথা সমগ্র জাতিকে গর্বিত করেছে।