আরব বিশ্বের বর্তমান অস্থিরতার মধ্যেই এক বিশাল সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা ঘোষণা করল তুরস্ক। ইস্তাম্বুলে আয়োজিত ‘সাহা ২০২৬’ প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে তুরস্ক প্রকাশ করেছে তাদের নতুন আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) ‘ইলদিরিমহান’-এর পরিকল্পনা। ৬,০০০ কিলোমিটার পাল্লার এই বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারত ও আমেরিকা পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তু গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চারটি শক্তিশালী রকেট ইঞ্জিনে সজ্জিত এই ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের গতির ২৫ গুণেরও বেশি গতিতে ছুটতে সক্ষম। এর পেলোড বহনের ক্ষমতা ৩,০০০ কেজি (৩ টন), যা মিসাইল টেকনোলজি কন্ট্রোল রেজিম (MTCR)-এর ৫০০ কেজির সীমা ছাড়িয়ে বহুগুণ বেশি। জ্বালানি হিসেবে এতে ব্যবহার করা হবে তরল নাইট্রোজেন টেট্রোক্সাইড।
তুরস্কের এই সাহসী কিন্তু বিতর্কিত পদক্ষেপটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে। সাধারণত, যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশকে ৩০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে বাধা দেয় এবং এমটিসিআর-এর মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সম্প্রতি পাকিস্তানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রচেষ্টায়ও ওয়াশিংটন তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল। সেখানে তুরস্কের মতো ন্যাটোভুক্ত দেশের এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে দেখবে, তা নিয়ে চলছে জল্পনা। তুরস্কের প্রকাশিত প্রচারমূলক ভিডিওতে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্র তুলে ধরায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দেশ মুখ না খুললেও, এই প্রজেক্ট যে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনবে, তা স্পষ্ট।





