রাজ্যে ক্ষমতার অলিন্দে বড়সড় ওলটপালটের পর এবার নাটকীয়তা পৌঁছাল চূড়ান্ত পর্যায়ে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একের পর এক সম্পত্তিতে কলকাতা পুরসভার (KMC) নোটিস জারির পর এবার খোদ তাঁর কালীঘাট রোডের বাসভবনে পৌঁছে গেলেন পুরকর্মীরা। আজ, ২০ মে বিকেলে একগোছা আইনি কাগজ ও নোটিস হাতে পুরসভার একটি বিশেষ দল সরাসরি হাজির হয় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কালীঘাটের বাড়ির দোরগোড়ায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘ভাইপোর সম্পত্তি’ নিয়ে বিস্ফোরক দাবির পর পুরসভার এই অভাবনীয় পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
একগোছা কাগজ হাতে অভিষেকের দুয়ারে পুরকর্মীরা!
পুরসভা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন বিকেলে কলকাতা পুরসভার এক্সিকিউটিভ উইংয়ের আধিকারিক ও কর্মীরা কড়া পাহারায় কালীঘাট রোডে অভিষেকের বাসভবনে যান। তাঁদের হাতে ছিল একাধিক ফাইলের একগোছা নথি এবং নোটিস। ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার ১৪টি সম্পত্তি এবং অভিষেকের নিজস্ব সম্পত্তি মিলিয়ে যে ২৪টি বেনামি ও বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, এই নোটিস তারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। পুরসভার আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভবনের নকশা ও আইনি বৈধতার কাগজ জমা না দিলে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে এই নোটিসে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “হঠাৎ করেই পুরসভার গাড়ি এসে থামে কালীঘাট রোডের বাড়ির সামনে। একঝাঁক পুরকর্মী হাতে বেশ কিছু ফাইল ও নোটিসের কাগজ নিয়ে ভেতরে যান। এলাকায় এই নিয়ে তুমুল শোরগোল শুরু হয়ে গেছে।”
ফিরহাদের দায় এড়ানো এবং শুভেন্দুর ‘ফাইল’ ম্যাজিক
কলকাতা পুরসভার এই অতি-সক্রিয়তা নিয়ে ইতিমধ্যেই মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজের দায় ঝেড়ে ফেলে জানিয়েছেন যে, নোটিস দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিউনিসিপ্যাল কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ বিভাগের এক্তিয়ারভুক্ত এবং এর সাথে রাজনীতির যোগ নেই। তবে রাজনৈতিক মহলের স্পষ্ট মত, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতা পুরসভার গোপন ফাইল হাতে পাওয়ার দাবি করার ঠিক দু’দিনের মাথায় যেভাবে অভিষেকের একের পর এক ডেরায় নোটিস ঝুলছে, তা অত্যন্ত সুপরিকল্পিত।
তৃণমূলের অন্দরে তীব্র ক্ষোভ ও আশঙ্কার মেঘ
খোদ কালীঘাটের বাড়ির দোরগোড়ায় পুরসভার এই হানায় কার্যত হতভম্ব ও ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চরম সীমা পার করে গিয়েছে নতুন বিজেপি সরকার। দলের শীর্ষ নেতার ওপর এভাবে মানসিক চাপ তৈরি করতেই পুরসভাকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে নবান্ন সূত্রের খবর, আইনের চোখে সবাই সমান এবং বেআইনি নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। কালীঘাট রোডের বাড়িতে এই নোটিস জারির পর আগামী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতার রাজনৈতিক পারদ যে আরও কয়েক ডিগ্রি চড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।





