নিজের এক টুকরো ছাদের স্বপ্ন ভারতের মধ্যবিত্তের কাছে যেমন আবেগের, তেমনই বড় এক আর্থিক চ্যালেঞ্জ। অধিকাংশ মানুষই হোম লোন বা গৃহঋণের মাধ্যমে এই স্বপ্ন পূরণ করেন। কিন্তু এই ২০-২৫ বছরের ঋণের বোঝা আপনার জীবনযাত্রার ওপর ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে? লোন বিশেষজ্ঞদের মতে, হোম লোন নেওয়া একটি কৌশল হতে পারে। বর্তমানে সুদের হার ৭-৮ শতাংশের মধ্যে, তাই সঞ্চিত টাকা একবারে বাড়িতে আটকে না রেখে মিউচুয়াল ফান্ডে ১২-১৫ শতাংশ রিটার্নে বিনিয়োগ করা অনেক বেশি লাভজনক।
তবে বিপদের মেঘ ঘনিয়ে আসে যখন বেতন ও ইএমআই-এর ভারসাম্য নষ্ট হয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বেতনের ৩০-৪০ শতাংশের বেশি টাকা ইএমআই হিসেবে বরাদ্দ করা একেবারেই উচিত নয়। ব্যাংকগুলো ৫০-৫৫ শতাংশ পর্যন্ত লোন দিতে চাইলেও, মুদ্রাস্ফীতির বাজারে তা বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে কর্পোরেট জগতে ছাঁটাইয়ের এই মরসুমে হুট করে চাকরি হারালে হোম লোন বিশাল মানসিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এই সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘লোন প্রোটেকশন ইন্স্যুরেন্স’ এবং সমান্তরাল একটি এসআইপি (SIP) চালু রাখা অত্যন্ত জরুরি।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো চক্রবৃদ্ধি সুদের প্রভাব। ২০-২৫ বছরের জন্য ৫০ লক্ষ টাকা লোন নিলে মেয়াদ শেষে ব্যাংককে প্রায় ১ কোটি টাকা ফেরত দিতে হয়। অর্থাৎ মূলধনের প্রায় দ্বিগুণ! এই সুদের পাহাড় থেকে বাঁচতে ঋণের মেয়াদ কমিয়ে আনা এবং আয় বাড়লে মাঝেমধ্যে বড় অঙ্কের টাকা শোধ করে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। গৃহঋণ আপনাকে যেমন আর্থিক শৃঙ্খলা শেখায়, তেমনই সঠিক পরিকল্পনা না থাকলে এটি দুঃস্বপ্ন হতে পারে। তাই বিমার সুরক্ষা আর সঠিক অংক কষেই নামুন নিজের বাড়ি কেনার লড়াইয়ে।





