আগামীকাল রাজ্যের ১৪২টি আসনে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। তার ঠিক আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক উত্তাপকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন একজন পুলিশ অফিসার। নাম—অজয় পাল শর্মা। উত্তরপ্রদেশের এই ২০১১ ব্যাচের আইপিএস আধিকারিককে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। যা নিয়ে এখন সরগরম বাংলার রাজনীতি।
চিকিৎসক থেকে ‘সিংঘম’: এক নজরে অজয় পাল
অজয় পাল শর্মা স্রেফ একজন পুলিশ অফিসার নন, তাঁর পরিচয় বহুমুখী:
ডাক্তার পরিচয়: আইপিএস হওয়ার আগে তিনি ছিলেন একজন দন্তচিকিৎসক (ডেন্টিস্ট)। পাটিয়ালার সরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে ডেন্টাল সার্জারি পাশ করেন তিনি।
এনকাউন্টার রেকর্ড: অপরাধ জগতে তাঁর নাম শুনলে কাঁপুনি ধরে। যোগীরাজ্যে কাজ করার সময় তাঁর নেতৃত্বে অন্তত ৫০০টি এনকাউন্টার হয়েছে বলে দাবি করা হয় (যদিও এর কোনো সরকারি পরিসংখ্যান মেলেনি)।
দাবাং ইমেজ: দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং অপরাধ দমনে কঠোর মেজাজের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে কেউ বলছেন ‘সিংঘম’, কেউ বা ‘চুলবুল পাণ্ডে’।
কেন তাঁকে ঘিরে বিতর্ক?
বাংলার ভোট ময়দানে পা দিয়েই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন এই অফিসার। ১. ফলতায় হুঙ্কার: তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির সামনে গিয়ে তাঁর সাফ কথা, “ভোটারদের ভয় দেখালে এমন চিকিৎসা করব যে সারাজীবন মনে রাখবেন।” এই ভিডিও এখন ভাইরাল। ২. অতীতের বিতর্ক: তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই অজয় পালের অতীতের খতিয়ান বের করে আক্রমণ শানিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং নারীঘটিত বিতর্কের কথা তুলে ধরা হয়েছে। ৩. শাসকদলের অস্বস্তি: তৃণমূলের দাবি, একজন বিতর্কিত অফিসারকে বাংলার ওপর চাপিয়ে দিয়ে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। “বাংলা উত্তরপ্রদেশ নয়”—এই বার্তাই দিচ্ছে ঘাসফুল শিবির।
কমিশনের লক্ষ্য কী?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়, ক্যানিং বা ফলতার মতো এলাকায় ভোট পরবর্তী এবং ভোট পূর্ববর্তী হিংসার ইতিহাস দীর্ঘ। ছাপ্পা ভোট ও বুথ দখলের অভিযোগ রুখতে কমিশন এবার এমন একজন অফিসারকে সামনে রেখেছে, যার ‘ইমেজ’ দেখেই দুষ্কৃতীরা পিছিয়ে যায়।
অজয় পাল শর্মার এই ‘দাবাং’ উপস্থিতি কি সত্যিই স্বচ্ছ ভোট নিশ্চিত করবে, নাকি বিতর্কের আগুনে ঘি ঢালবে? উত্তর মিলবে আগামীকাল বিকেলেই।





