পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই রাজ্য রাজনীতিতে আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণের ঝড় উঠেছে। সোমবার বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছেন যে, এবার বাংলায় বিজেপির জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা। তাঁর মতে, বাংলার মানুষ দীর্ঘদিনের “দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং অনুপ্রবেশ” থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতে চাইছে। সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানান, “বাংলার মানুষের একটাই কথা—৪ মে বিজেপি আসছে, টিএমসি যাচ্ছে।”
মমতার ‘নার্ভাসনেস’ নিয়ে তোপ ধর্মেন্দ্র প্রধানের
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, জনসমর্থন হারানোর ভয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন চূড়ান্ত ‘নার্ভাস’। প্রধান সাংবাদিকদের বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝে গিয়েছেন যে বাংলার মানুষ এবার তাঁকে হারাবেই। তাঁর পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে। গোটা বাংলা এখন প্রধানমন্ত্রী মোদীর ওপর ভরসা করে ডবল ইঞ্জিন সরকারের দিকে এগোচ্ছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের দাপটে সাধারণ মানুষ এবং ‘সনাতনী’ সমাজ আজ ভীত ও সন্ত্রস্ত।
হতাশ যুবসমাজ ও আতঙ্কিত মহিলারা
ধর্মেন্দ্র প্রধানের দাবি, তৃণমূলের শাসনকালে বাংলার যুবসমাজ সবচেয়ে বেশি হতাশ, কৃষকরা দুর্দশাগ্রস্ত এবং মহিলারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। সরকারের ওপর মানুষের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভই এবার ব্যালট বক্সে প্রতিফলিত হবে বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের পরাজয় নিশ্চিত জেনেই এখন অসংলগ্ন মন্তব্য করছেন।
এক নজরে পশ্চিমবঙ্গের ভোটের লড়াই
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এই হাই-ভোল্টেজ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দুই দফায়—২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। ২৯৪ আসন বিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল ২১৩টি আসন জিতে ক্ষমতা দখল করলেও, বিজেপি ৭৭টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে এসেছিল। এবার কি বিজেপি সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে নবান্ন দখল করতে পারবে? নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দুর্গ রক্ষা করবেন? উত্তর মিলবে ৪ মে।





