দীর্ঘ ৪৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান। বুধবার ঠিক দুপুর ১২টার শুভক্ষণে খোলা হলো ওড়িশার পুরী জগন্নাথ মন্দিরের রহস্যময় ‘রত্নভাণ্ডার’। দ্বাদশ শতাব্দী থেকে চলে আসা এই ভাণ্ডারের গোপন সম্পদ নিয়ে জনমানসে জল্পনার শেষ নেই। রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের দান করা এই রাজকোষের সম্পদ গণনার কাজ শুরু হতেই নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে এর ইতিহাস।
রত্নভাণ্ডারের অন্দরে কী কী আছে?
পুরীর এই মহানিধি দুটি কক্ষে বিভক্ত— ‘ভিতর ভাণ্ডার’ এবং ‘বাহারি ভাণ্ডার’। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী সেখানে যা রয়েছে তা কল্পনাতীত:
-
সোনার পাহাড়: বাহারি ভাণ্ডারে রয়েছে জগন্নাথদেবের সোনার মুকুট এবং ৩টি বিশালাকার সোনার হার, যার প্রতিটির ওজন ১২০ তোলা!
-
রত্নখচিত অলঙ্কার: ভিতর ভাণ্ডারে রয়েছে ৭৪টি অতি মূল্যবান সোনার অলঙ্কার (প্রতিটি ১০০ তোলার বেশি) এবং সোনা-হীরে-মুক্তোর তৈরি অসংখ্য পাত।
-
রুপোর ভাণ্ডার: গয়না ছাড়াও এখানে রয়েছে প্রায় ১৪০টির বেশি রুপোর অলঙ্কার ও বাসনপত্র।
ইতিহাস ও অলৌকিক বিশ্বাস:
পুরাণ মতে, ভগবান নীলমাধবকে এই রত্ন দান করেছিলেন রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন। দেবী লক্ষ্মী আশীর্বাদ করেছিলেন যে, এই ভাণ্ডার কখনও খালি হবে না। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, মন্দির থেকে ২ কিমি দূরে অবস্থিত লোকনাথ শিব মন্দির এই ভাণ্ডারের রক্ষক। প্রচলিত রয়েছে যে, ভাণ্ডারের গভীরে বিশালকার সাপ এবং অজানা সুড়ঙ্গ রয়েছে যা এই সম্পদকে পাহারা দেয়।
গত গণনার পরিসংখ্যান (১৯৭৮):
শেষবার ১৯৭৮ সালের ১৩ মে এই ভাণ্ডার খোলা হয়েছিল। সেই সময় পাওয়া গিয়েছিল:
-
স্বর্ণ সামগ্রী: ৪৫৪টি (ওজন ১২৮.৩৮ কেজি)
-
রুপোর সামগ্রী: ২৯৩টি (ওজন ২২১.৫৩ কেজি)
-
এছাড়াও প্রচুর মূল্যবান পাথর ও হীরে।
রহস্যময় চাবি: ২০১৮ সালে আদালতের নির্দেশে ভাণ্ডার খোলার চেষ্টা হলেও ‘চাবি খুঁজে না পাওয়ায়’ তা সম্ভব হয়নি। ৪৮ বছর পর এবার সেই রহস্যের জট খুলতে চলেছে।
পুরীর এই রত্নভাণ্ডার শুধু কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ নয়, বরং এর সাথে জড়িয়ে রয়েছে ওড়িশার ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং কোটি কোটি মানুষের অটুট বিশ্বাস। এই গণনায় আর কী কী নতুন তথ্য সামনে আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।