“৪০০০ কোটির জালিয়াতি”? BlackRock-এর মতো বিশ্বখ্যাত সংস্থাকেও বোকা বানিয়েছেন! জানুন বঙ্কিম ব্রহ্মভট্টের কীর্তি

এক চাঞ্চল্যকর আর্থিক জালিয়াতির ঘটনায় এই মুহূর্তে আমেরিকা জুড়ে তোলপাড় চলছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত টেলিকম সংস্থার সিইও বঙ্কিম ব্রহ্মভট্ট (Bunkim Brahmbhatt)। তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪০০০ কোটি টাকা) জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।

‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বঙ্কিম ব্রহ্মভট্ট আমেরিকার একাধিক ব্যাঙ্ক ও বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ সংস্থার থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছেন। এই ঋণ নেওয়ার জন্য তিনি ব্যাঙ্কে জালি কাস্টমার অ্যাকাউন্ট এবং ভুয়ো রেভিনিউ ডকুমেন্ট জমা দিয়েছেন বলে অভিযোগ।

 

🏦 যে সংস্থাগুলির থেকে প্রতারণা:

 

বঙ্কিম ব্রহ্মভট্টের সংস্থার নাম হল Broadband Telecom and Bridgevoice। রিপোর্ট বলছে, তিনি শুধু সাধারণ বিনিয়োগকারীকেই নয়, বরং পৃথিবীর বিখ্যাত কিছু আর্থিক সংস্থাকে ভুয়ো তথ্য দিয়ে বোকা বানিয়েছেন:

  • HPS Investment Partners
  • BlackRock (ব্ল্যাকরক), বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা।
  • পাশাপাশি, ঋণের বড় একটি অংশ দিয়েছে বিএনপি পরিবাস ব্যাঙ্ক (BNP Paribas Bank)

ব্রহ্মভট্ট জাল কাস্টমার বেস এবং আয়ের মিথ্যা নথি দেখিয়ে এই সংস্থাগুলির কাছ থেকে টাকা নেন, যদিও বাস্তবে তাঁর সংস্থার আর্থিক অবস্থা ছিল বেজায় খারাপ।

 

⚖️ মামলার জল কতদূর?

 

২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে ঋণদাতা সংস্থাগুলি বঙ্কিম ব্রহ্মভট্টের সংস্থার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করে। তাদের দাবি, ব্রহ্মভট্টের দেওয়া রেভিনিউ সোর্সের কোনও ভিত্তিই ছিল না।

  • ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে HPS ব্রহ্মভট্টের সংস্থাকে ঋণ দেওয়া শুরু করে, যা ২০২১ সালে ৩৮৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।
  • ২০২৪ সালে এই ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৩০ মিলিয়ন ডলারে।

 

⚠️ সংস্থা দেউলিয়া, CEO ‘গা ঢাকা’ দিলেন?

 

বর্তমানে বঙ্কিম ব্রহ্মভট্টের সংস্থা ‘চ্যাপ্টার ১১ ব্যাঙ্করাপ্সি প্রোটেকশন’-এর অধীনে নিজেদের দেউলিয়া (Bankrupt) ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে, বঙ্কিম ব্রহ্মভট্ট নিজেও নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করেছেন।

এই পরিস্থিতিতে যখন সাংবাদিকেরা নিউ ইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে তাঁর অফিসে যান, তখন তা তালাবন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। আশেপাশের লোকজনের বক্তব্য, সেখানে কাউকেই কয়েক সপ্তাহ ধরে দেখা যায়নি।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, বঙ্কিম ব্রহ্মভট্ট সম্ভবত আমেরিকা ছেড়েছেন এবং তিনি এখন ভারতে অবস্থান করছেন। যদিও ব্রহ্মভট্টের আইনজীবী এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, এই ৪০০০ কোটি টাকার জালিয়াতির ঘটনায় আমেরিকা চূড়ান্ত কী পদক্ষেপ নেয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy