“৩ বছরে মৃত ৩৭০০ মৃত্যু!”-রেকর্ড গরমের আশঙ্কা, হাই-অ্যালার্ট মানবাধিকার কমিশনের

দেশজুড়ে বাড়তে থাকা তাপপ্রবাহের (Heatwave) ভয়াবহতা নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের ২১টি রাজ্য এবং দিল্লি সরকারকে দ্রুত প্রয়োজনীয় আগাম পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। তীব্র গরমে যাতে কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের প্রাণহানি না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।

কমিশনের নজরে কারা?

কমিশনের মতে, তাপপ্রবাহের সময় সবথেকে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন সমাজের পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক মানুষরা। নির্দেশিকায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে:

  • রোদে কাজ করা শ্রমিক: যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাজ করেন।

  • গৃহহীন ও দরিদ্র: যাদের সঠিক আশ্রয়ের অভাব রয়েছে।

  • দুর্বল শ্রেণি: শিশু, নবজাতক, বয়স্ক ব্যক্তি এবং গর্ভবতী মহিলারা।

রেকর্ড মৃত্যু ও পরিসংখ্যানের উদ্বেগ

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর (NCRB) তথ্য তুলে ধরে কমিশন জানিয়েছে, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতে তাপপ্রবাহে প্রাণ হারিয়েছেন ৩,৭১২ জন। এই পরিসংখ্যানকে ‘উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে কমিশন জানিয়েছে, আগের চেয়ে তাপপ্রবাহের স্থায়িত্ব এবং তীব্রতা—দুটোই বেড়েছে। এতে শুধু স্বাস্থ্য নয়, অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যায়।

মুখ্যসচিবদের কাছে রিপোর্ট তলব

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়ে জানতে চেয়েছে: ১. বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের (NDMA) গাইডলাইন মেনে প্রতিটি জেলা স্তরে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? ২. মৃত্যুহার রোধে এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতায় রাজ্য সরকারের ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ কী? ৩. পানীয় জল, ওআরএস (ORS) এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য বুথ স্তরে বা শ্রমিকদের জন্য কী পরিকাঠামো গড়া হয়েছে?

তালিকায় রয়েছে কোন কোন রাজ্য?

পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে—অন্ধ্রপ্রদেশ, অসম, বিহার, ছত্তীসগড়, গুজরাত, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, কর্ণাটক, কেরল, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, পাঞ্জাব, রাজস্থান, সিকিম, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, ত্রিপুরা, উত্তরপ্রদেশ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দিল্লি।

ভোটের উত্তাপের মাঝেই আবহাওয়ার এই চরম সতর্কতা আগামী দিনে রাজ্য সরকারগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy