চতুর্থ দিনে পা দিল ইরান বনাম আমেরিকা-ইজরায়েল যুদ্ধ। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, যুদ্ধ তিন পক্ষের হলেও আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ১০টি দেশে। কুয়েত, দুবাই, বাহরিন থেকে ওমান— সর্বত্রই আছড়ে পড়ছে ইরানি মিসাইল ও ড্রোন। প্রশ্ন উঠছে, এই দেশগুলোর অপরাধ কী? কেন ইরান বেছে বেছে প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে হামলা চালাচ্ছে?
তেহরানের ‘ঘুরিয়ে নাক দেখানো’ স্ট্র্যাটেজি আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের এক সুপরিকল্পিত রণকৌশল। মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ৯টি দেশে আমেরিকার শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। ইরান সরাসরি ওয়াশিংটনকে আঘাত করার বদলে এই দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। লক্ষ্য একটাই— আরব দেশগুলো যেন নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচাতে হোয়াইট হাউসের কাছে যুদ্ধ থামানোর জন্য দরবার শুরু করে।
অর্থনীতিতে চরম আঘাত: থমকে গেছে দুবাই-সৌদি শুধুমাত্র সামরিক ঘাঁটি নয়, ইরানের নিশানায় রয়েছে গাল্ফ দেশগুলোর অর্থনীতিও।
-
সংযুক্ত আরব আমিরশাহি: হামলার আতঙ্কে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান আর্থিক কেন্দ্র দুবাইয়ের শেয়ার বাজার টানা দু’দিন বন্ধ রাখতে হয়েছে।
-
সৌদি আরব: ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে সৌদির বিখ্যাত ‘রাস তানুয়ারা’ (Ras Tanura) তেল শোধনাগারে।
-
ওমান ও কাতার: ওমান উপকূলে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা এবং কাতারের শিল্পনগরী ‘রাস লাফান’-এর জ্বালানি কেন্দ্রগুলোকে টার্গেট করে বিশ্ববাজারে তেলের সংকট তৈরির প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছে তেহরান।
ঝুঁকিতে জিসিসি (GCC) রাষ্ট্রসমূহ বাহরিন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি ও আমিরশাহি— এই ছয়টি দেশ ভৌগোলিকভাবে ইরানের খুব কাছে এবং এখানে মার্কিন উপস্থিতি সবথেকে বেশি। ইরান দেখাতে চাইছে, তারা চাইলেই এই অঞ্চলের বাণিজ্য, পর্যটন এবং বিনিয়োগ নিমেষে ধ্বংস করে দিতে পারে।
উল্টো ফল হওয়ার সম্ভাবনা? ইরানের এই ‘নির্বিচার’ হামলা কিন্তু হিতে বিপরীতও হতে পারে। আরব দেশগুলো ভয়ে পিছু না হটে বরং আত্মরক্ষার তাগিদে আমেরিকা ও ইজরায়েলের আরও কাছাকাছি চলে আসছে। ইতিমধ্যেই জিসিসি দেশগুলো রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদের দোহাই দিয়ে সম্মিলিত প্রতিরোধের ডাক দিয়েছে।
উপসংহার: এখন প্রশ্ন একটাই— ইরানের এই ভয়ংকর জেদ নাকি উপসাগরীয় দেশগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা, কোনটি আগে ভাঙবে? মধ্যপ্রাচ্যের এই ‘ক্যাট অ্যান্ড মাউস’ খেলা শেষ পর্যন্ত বিশ্বকে কোন ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার।