কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে ওঠা ৩ কোটি টাকার তোলাবাজি মামলার তদন্তে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। শুক্রবার ওড়িশা সীমান্ত লাগোয়া বেলদা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে সুশান্ত ঘোষের গাড়ির চালক সুজিত চৌধুরীকে।
কী অভিযোগ? ব্যবসায়ী ও হকারদের অভিযোগ, রুবির মোড় থেকে আরবানা পর্যন্ত এলাকায় হকার স্টল বসানোর নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলাবাজি করা হতো। অভিযোগ, এই পুরো তোলাবাজি চক্রটি কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের মদতেই চলত এবং তাঁর হয়ে টাকা তোলার কাজ করতেন সুজিত চৌধুরী। স্থানীয় হকারদের দাবি, এলাকায় স্টলের সংখ্যা ৩০০ থেকে বাড়িয়ে প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছিল এবং প্রত্যেক স্টল মালিকের থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হতো।
ফেরার কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ: এই তোলাবাজির ঘটনায় আনন্দপুর থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ নিখোঁজ। আনন্দপুর থানা পুলিশ মামলার তদন্ত শুরু করলেও এখন পর্যন্ত সুশান্ত ঘোষের কোনো হদিশ মেলেনি। চালক গ্রেফতার হওয়ার ফলে তদন্তকারীরা মনে করছেন, সুশান্ত ঘোষের বর্তমান অবস্থান ও তোলাবাজির টাকা কোথায় গচ্ছিত আছে—সেই সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব।
অতীতের ঘটনা ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব: উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ তাঁর ১২ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। অতীতে তাঁর ওপর গুলি চালানোর চেষ্টাও করা হয়েছিল, যা নিয়ে দলীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগও উঠেছিল। সেই সময় থেকে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে নিজের ঘনিষ্ঠ মহলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন সুশান্ত।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত সুজিত চৌধুরীকে জেরা করে তোলাবাজি চক্রের মূল মাথা ও চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের সন্ধানেও বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি জোরদার করেছে আনন্দপুর থানার পুলিশ।





