বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ভোটার তালিকা সংশোধন বা Special Intensive Revision (SIR) নিয়ে এক নজিরবিহীন তথ্য সামনে আনল নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে নাম সংশোধনের যে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, তার পরিসংখ্যান দেখে কার্যত অবাক রাজনৈতিক মহল। কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৭ লাখের বেশি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার যোগ্য বা ‘ইনএলিজিবল’ বলে চিহ্নিত হলেও, নিজেদের নাম বাঁচাতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন মাত্র ৬৫৭ জন!
পুরো বিষয়টি ঠিক কী? নির্বাচন কমিশনের কড়া স্ক্রুটিনির ফলে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে কয়েক লক্ষ ভোটারের নাম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এদের মধ্যে অনেকেরই মৃত্যু হয়েছে, কেউ এলাকা ছেড়েছেন, আবার কারো নথিতে বড়সড় গরমিল পাওয়া গিয়েছে।
যোগ্য ও অযোগ্য: কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৬০ লাখেরও বেশি নাম স্ক্রুটিনিতে রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে ৩২ লাখের বেশি নামকে ‘যোগ্য’ বলে সবুজ সংকেত দেওয়া হলেও, প্রায় ২৭ লাখ (২৭,০৫,০০০) নামকে বাতিল বা আবেদনের অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়।
আপিলের সুযোগ: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জানানো হয়েছিল, যাদের নাম বাদ পড়েছে, তারা যদি মনে করেন যে তারা বৈধ ভোটার, তবে তারা জুডিশিয়াল ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারবেন।
আবেদনকারীর সংখ্যা কেন এত কম? ২৭ লাখের মধ্যে মাত্র ৬৫৭ জন আপিল করায় একাধিক প্রশ্ন উঠছে: ১. সঠিক তথ্যের অভাব: বড় অংশের মানুষ হয়তো জানতেনই না যে তাদের নাম বাদ পড়েছে বা আপিল করার সুযোগ আছে। ২. ভুয়ো নাম: বিরোধীদের একাংশের দাবি, যারা প্রকৃত ভোটার ছিলেন না বা যাদের নাম বেআইনিভাবে তালিকায় ছিল, তারাই ভয়ে ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি হননি। ৩. নিষ্পত্তি: ট্রাইব্যুনাল এই ৬৫৭টি আবেদনের দ্রুত শুনানি করছে এবং প্রথম দফার ভোটের আগেই তাদের অধিকাংশের নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
জেলা ভিত্তিক হিসেব: মুর্শিদাবাদ (প্রায় ৪.৫৫ লাখ) এবং উত্তর ২৪ পরগনা (৩.২৫ লাখ) থেকে সবথেকে বেশি নাম বাদ পড়েছে। মালদহ ও নদীয়া জেলাতেও বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা লক্ষাধিক।
এক নজরে: ২৭ লক্ষ মানুষের নাম বাদের যোগ্য হলেও মাত্র ৬৫৭ জনের আবেদন স্পষ্ট করছে যে, ভোটার তালিকা ‘শোধন’ করার প্রক্রিয়ায় একটি বড় অংশ আবেদন করার সাহসই দেখাননি।





