বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা যেন থামতেই চাইছে না। এবার গাজিপুরের কালিগঞ্জে সামান্য বচসাকে কেন্দ্র করে পিটিয়ে খুন করা হলো লিটন চন্দ্র ঘোষ (৬০) নামে এক প্রবীণ হিন্দু ব্যবসায়ীকে। নিহত লিটনবাবু পেশায় একজন হোটেল ও মিষ্টির দোকানের মালিক ছিলেন। শনিবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওপার বাংলার গাজিপুরে তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
তুচ্ছ কারণে প্রাণ গেল প্রবীণ ব্যবসায়ীর: স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার গাজিপুরের কালিগঞ্জে লিটন চন্দ্র ঘোষের দোকানে এক কর্মীর সঙ্গে জনৈক খরিদ্দারের বচসা শুরু হয়। অনন্ত দাস নামে ওই কর্মীকে বাঁচাতে এগিয়ে যান মালিক লিটনবাবু। অভিযোগ, সেই সময় বেশ কিছু দুষ্কৃতী চড়াও হয় তাঁর ওপর। কথা কাটাকাটি থেকে শুরু হওয়া ঝগড়া দ্রুত সংঘর্ষের রূপ নেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুষ্কৃতীরা লিটনবাবুকে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আচমকাই একটি বেলচা দিয়ে লিটন চন্দ্র ঘোষের মাথায় সজোরে আঘাত করা হয়। গুরুতর চোট পেয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।
তিনজন আটক, এলাকায় উত্তেজনা: এই ঘটনার খবর জানাজানি হতেই এলাকায় ক্ষোভ আছড়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কালীগঞ্জ থানার পুলিশ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই স্বপন মিয়া, মাজেদা খাতুন এবং মাসুম মিয়া নামে তিনজনকে আটক করেছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এলাকায় পুলিশি টহলদারি চালানো হচ্ছে।
২৪ ঘণ্টায় জোড়া হত্যাকাণ্ড: উল্লেখ্য, লিটন চন্দ্র ঘোষের খুনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই শুক্রবার রাতে রাজবাড়ী জেলায় রিপন সাহা (৩০) নামে আরও এক হিন্দু যুবককে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। রিপন একটি পেট্রোল পাম্পে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ, এক গাড়িচালক জ্বালানি নেওয়ার পর টাকা দিতে অস্বীকার করলে রিপন তাঁকে বাধা দেন। সেই আক্রোশেই অভিযুক্ত চালক ইচ্ছাকৃতভাবে রিপনের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। বাংলাদেশে পর পর হিন্দু খুনের এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।





