বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় জয়ের পর এবার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি সংঘাতের পথে না গিয়ে পরাজয় মেনে নেওয়ার পরামর্শ দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার। মঙ্গলবার সংবাদসংস্থা ANI-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানান, জনগণের রায়কে সম্মান জানানোই এখন তৃণমূলের একমাত্র কর্তব্য।
“২০ শতাংশ হিন্দু ভোট বেড়েছে” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোট লুঠ ও কমিশন বিরোধী অভিযোগকে নস্যাৎ করে সুকান্ত মজুমদার দাবি করেন, এবার বাংলায় হিন্দু ভোটারদের মেরুকরণ হয়েছে রেকর্ড স্তরে। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উচিত এই হার মেনে নেওয়া। সিসিটিভি ট্যাম্পারিং বা মারামারির অভিযোগ তাঁর মুখে মানায় না। এবার হিন্দু ভোট ২০ শতাংশ বেড়েছে। সাধারণ মানুষ রোদে লাইনে দাঁড়িয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন তাঁদের ভাড়া করে আনেনি।” জনগণের রায় নিয়ে প্রশ্ন তুললে যে কোনও রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ অন্ধকার বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
অভিষেককে পাল্টা তোপ তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন, তাকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দেন সুকান্ত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “একই নির্বাচন কমিশন কেরালা ও বাংলায় ভোট করিয়েছে। কেরালায় গণতন্ত্র জিতলে বাংলায় সমস্যা কোথায়? যে কোনও একটা দিক বাছুন।” তিনি স্পষ্ট জানান, সরকার গঠন ও মুখ্যমন্ত্রীর শপথের পর দেশের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেবে বিজেপি।
বিজেপি কর্মীদের জন্য কড়া বার্তা বিজয়োল্লাসের মাঝে দলের কর্মীদের সংযত থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল বা ভাঙচুরের যে অভিযোগ আসছে, তার তীব্র নিন্দা করেন তিনি। কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, “আমাদের তৃণমূল হওয়ার দরকার নেই। মানুষ তৃণমূলের হিংসা পছন্দ করে না বলেই বিজেপিকে বেছে নিয়েছে। যদি কোনও কর্মী পার্টি অফিস দখল বা পুড়িয়ে দেওয়ার মতো কাজে জড়ান, তবে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে এবং দল তাঁদের কোনও সাহায্য করবে না। আমাদের বাংলায় ভয়ের পরিবেশ শেষ করতে হবে।”
ঐতিহাসিক জয় ও আত্মবলিদান বাংলার এই জয়কে দলের মৃত ও আক্রান্ত কর্মীদের প্রতি উৎসর্গ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “বাংলার বিজেপি কর্মীরা অন্য ধাতুতে গড়া। ৩০০-র বেশি হিন্দু ও ২ জন মুসলিম কর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন এই দিনটি দেখার জন্য। অমিত শাহর নিখুঁত পরিকল্পনা এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর পরিশ্রমের কারণেই এই অসম্ভব সম্ভব হয়েছে।”
উল্লেখ্য, ২০৬টি আসন জিতে বাংলায় এক ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। গতবার ২১২টি আসন পাওয়া তৃণমূল এবার মাত্র ৮০টি আসনে থিতু হয়েছে। এই বিশাল ব্যবধানের জয়ের পর সুকান্ত মজুমদারের এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।





