মার্চ মাস পড়তেই চোখ রাঙাচ্ছে সূর্য। আবহাওয়া দফতরের (IMD) পূর্বাভাস অনুযায়ী, মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ জায়গায় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি থাকবে দিনের তাপমাত্রা। আর এই তালিকার একদম প্রথম সারিতেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নাম। শনিবার মাসিক পূর্বাভাস জারি করে মৌসম ভবন স্পষ্ট জানিয়েছে, এবার রেকর্ড ভাঙা গরম আর তাপপ্রবাহের (Heatwave) জন্য তৈরি থাকতে হবে দেশবাসীকে।
কোথায় কোথায় বইবে ‘লু’?
গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও তাপপ্রবাহের কবলে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে একগুচ্ছ রাজ্যের:
-
পূর্ব ভারত: ওড়িশা, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং ছত্তিশগড়।
-
উত্তর ও পশ্চিম ভারত: রাজস্থান, গুজরাত, হরিয়ানা ও পাঞ্জাব।
-
দক্ষিণ ভারত: তেলঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তর কর্ণাটক ও তামিলনাড়ু।
-
মধ্য ভারত: মহারাষ্ট্রের দক্ষিণ ও পূর্ব অংশ এবং উত্তরপ্রদেশ।
জনস্বাস্থ্যের ওপর বড় বিপদের আশঙ্কা
আইএমডি-র ডিজি মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “মার্চ-এপ্রিল-মে মাসে তাপপ্রবাহের প্রকোপ বাড়তে পারে। এর ফলে জনস্বাস্থ্য, জলের চাহিদা এবং বিদ্যুৎ পরিষেবায় বড় প্রভাব পড়বে।” বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং রোদে কাজ করা শ্রমিকদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতেই ভাঙল ২৫ বছরের রেকর্ড!
মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালের পর এই প্রথম গত ফেব্রুয়ারি মাসে সারা দেশে সবথেকে কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার অভাব এবং তুষারপাত না হওয়ায় শীত বিদায় নিয়েছে সময়ের আগেই। গোটা ফেব্রুয়ারি মাসে একটিও শৈত্যপ্রবাহের দেখা মেলেনি, যা আবহাওয়ার চরম পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কেমন থাকবে বৃষ্টির মেজাজ?
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, মার্চ মাসে সারা দেশে গড় বৃষ্টিপাত (২৯.৯ মিলিমিটার) স্বাভাবিক থাকার সম্ভাবনা থাকলেও, উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিম ভারতের কিছু অংশে বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরে ‘লা নিনা’ পরিস্থিতি থাকলেও আগামী মাসগুলিতে ‘এল নিনো’ ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা গরমকে আরও উসকে দিতে পারে।
সতর্কবার্তা: তীব্র রোদে বেরোনোর সময় ছাতা, জল ও সানগ্লাস ব্যবহার করুন। ডিহাইড্রেশন রুখতে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।