“১৮ থেকে একধাক্কায় ১২!”-ইরানের সেনায় এবার ‘শিশু বাহিনী’, যুদ্ধের নেশায় কোন বিপদে দুনিয়া?

যুদ্ধের দামামা বাজছে পশ্চিম এশিয়ায় (West Asia)। আর সেই আগুনেই এবার ঘুঁটি করা হচ্ছে ১২ বছরের শিশুদের! শৈশব কাটতে না কাটতেই তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ঘাতক অস্ত্র। শুক্রবার ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এক নজিরবিহীন ঘোষণায় জানাল, এখন থেকে মাত্র ১২ বছর বয়সেই সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারবে কিশোররা।

‘ফর ইরান’ কর্মসূচি ও শিশু সেনা: আগে ইরানি সেনায় যোগ দেওয়ার ন্যূনতম বয়স ছিল ১৮ বছর। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে সেই বয়স একধাক্কায় কমিয়ে ১২ করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে IRGC-র সাংস্কৃতিক বিষয়ক অধিকর্তা রহিম নাদালি জানিয়েছেন, ‘ফর ইরান’ নামে একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

কী কাজ করবে এই খুদে বাহিনী? সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ঘোষণা আজ হলেও তলে তলে প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে গিয়েছিল আগেই।

  • ১৮ বছরের কম বয়সিদের ইতিমধ্যেই দেওয়া হচ্ছে অত্যাধুনিক অস্ত্রের প্রশিক্ষণ।

  • তেহরানসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর শহরের চেকপোস্টে নাকা তল্লাশির কাজে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে এই কিশোরদের।

  • মূলত যুদ্ধ সহায়কের (Combat Support) ভূমিকায় এদের ব্যবহার করছে রেভোলিউশনারি গার্ড।

বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়: ইরানের এই সিদ্ধান্তে সরব হয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলি। তাদের দাবি, রাষ্ট্রপুঞ্জের ‘Convention on the Rights of the Child’ সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইরান শিশুদের যুদ্ধে ঠেলে দিয়ে চরম অপরাধ করছে।

ইরানের সাফাই: বিশ্বজুড়ে সমালোচনা শুরু হতেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে IRGC। তাদের দাবি, এই নিয়োগ বাধ্যতামূলক নয়। যদি কোনো শিশু বা তার বাবা-মা স্বেচ্ছায় সন্তানকে দেশের জন্য লড়তে পাঠাতে চান, তবেই তাদের নেওয়া হচ্ছে। যদিও ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর বিক্ষোভ দমনেও এই ‘শিশু বাহিনীকে’ ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছিল ইরানের বিরুদ্ধে।

বিশ্লেষকদের মতে, ১২-১৩ বছরের কিশোরদের মগজধোলাই করে যুদ্ধের ময়দানে নামানো এক ভয়াবহ ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy