মাত্র দুই সপ্তাহে ২০ জনের মৃত্যু! হরিয়ানার পালওয়াল জেলার ছাইন্সা গ্রাম এখন যেন এক জীবন্ত নরক। জ্বর, কাশি আর অনবরত বমির উপসর্গ নিয়ে একের পর এক প্রাণহানি ঘটছে। গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র আতঙ্ক। পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্রামে তড়িঘড়ি মেডিকেল ক্যাম্প বসিয়েছে প্রশাসন, চলছে রক্তের নমুনা সংগ্রহের কাজ।
মারণ রোগের থাবায় ছাইন্সা: কী বলছে স্বাস্থ্য দপ্তর?
স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রাথমিক পরীক্ষায় ধরা পড়েছে ভয়াবহ তথ্য। মৃত ও আক্রান্তদের অনেকের শরীরেই হেপাটাইটিস বি সংক্রমণের প্রমাণ মিলেছে। ঘরে ঘরে এখন সর্দি-জ্বর আর জন্ডিসের প্রকোপ। পরিস্থিতি বিচার করে স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি বিশেষ ইউনিট গ্রামে ডেরা বেঁধেছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে জন্ডিস, হেপাটাইটিস বি এবং সি পরীক্ষার জন্য রক্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। পজিটিভ রিপোর্ট এলেই পাঠানো হচ্ছে হাসপাতালে।
সংক্রমণের উৎস নিয়ে ঘনাচ্ছে রহস্য: নেশা না কি অন্য কিছু?
কীভাবে এই মারণ রোগ ছড়িয়ে পড়ল, তা নিয়ে প্রশাসন ও গ্রামবাসীদের মধ্যে দ্বিমত তৈরি হয়েছে:
-
প্রশাসনের দাবি: স্বাস্থ্য দপ্তরের নোডাল অফিসার বাসুদেব গুপ্তের মতে, দূষিত সূচ ব্যবহার এবং অসুরক্ষিত শারীরিক সম্পর্কের কারণেই এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে। গ্রামে পরিযায়ী শ্রমিক ও ট্রাক চালকদের যাতায়াত বেশি। এছাড়া মাদক সেবনের জন্য একই সূচ বারবার ব্যবহারের ফলেই এই গণ-সংক্রমণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
-
গ্রামবাসীদের পালটা দাবি: স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই ‘নেশা’ বা ‘চরিত্র’ সংক্রান্ত তত্ত্ব মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, শিল্পাঞ্চলের বর্জ্য মেশা দূষিত জলই এই মৃত্যুর কারিগর। গুরুগ্রাম থেকে আসা কলকারখানার নোংরা জল গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ায় জলবাহিত রোগ মহামারি আকার নিয়েছে।
চিকিৎসা নিয়ে ক্ষোভ, প্রাণ গেল কিশোরের
গত সপ্তাহে মাত্র ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যুতে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে গ্রামে। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে সঠিক সময়ে চিকিৎসা মেলেনি। যদিও প্রশাসন এই গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে, খবর পাওয়া মাত্রই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে গ্রামে প্রশাসনিক স্তরে সতর্কতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে। তবে কারণ যাই হোক না কেন, একের পর এক মৃত্যুমিছিল ছাইন্সা গ্রামের আকাশ-বাতাস ভারী করে তুলেছে।
বিঃদ্রঃ ছবিটি প্রতীকী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে