দীর্ঘ ১২ বছরের প্রতীক্ষা, আইনি লড়াই আর চোখের জলের অবসান। অবশেষে হাতে এল বহুকাঙ্খিত ‘অ্যপয়েন্টমেন্ট লেটার’। মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের পক্ষ থেকে ২০১৪ সালের টেট উত্তীর্ণ ২৬৪ জন প্রার্থীর হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হল। ডায়মন্ড হারবারে সংসদ অফিসে এদিন ছিল উৎসবের মেজাজ।
কেন এই দীর্ঘ অপেক্ষা? সংসদ সূত্রে খবর, ২০১৪ সালে টেট উত্তীর্ণ হলেও প্রশিক্ষণ বা ডিএলএড (D.L.Ed) না থাকায় অনেকেরই নিয়োগ আটকে গিয়েছিল। এর মধ্যে ২০২০-২২ শিক্ষাবর্ষে যাঁরা প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন, তাঁরা নিয়োগের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হন। মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। শেষমেশ শীর্ষ আদালতের নির্দেশে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত তিন দিন ধরে নিবিড় কাউন্সেলিংয়ের পর এদিন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান অজিত নায়েক যোগ্য প্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন।
খুশিতে আত্মহারা হবু শিক্ষকরা: নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে হবু শিক্ষিকা নিবেদিতা মণ্ডল বলেন, “২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল আমাদের নিয়োগের রায় দিয়েছিল আদালত। আজ সেই স্বপ্ন সত্যি হল। মোট ২৫১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে মেধার ভিত্তিতে ১৯৬৬ জনকে নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে আমাদের জেলার ২৬৪ জন আজ নিয়োগপত্র পেলাম।”
দীর্ঘ এক দশক পর কর্মসংস্থানের এই সুযোগ পেয়ে অনেক প্রার্থীকেই আবেগপ্রবণ হতে দেখা যায়। কারো বয়স পেরিয়ে গিয়েছে, কেউ বা টিউশন পড়িয়ে সংসার চালিয়েছেন এতকাল। তবে নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার পর অতীতের সব গ্লানি ভুলে এখন শিক্ষকতার নতুন অধ্যায় শুরু করতে প্রস্তুত তাঁরা।





