১১০০ কোটির তছরুপ! সোনা পাপ্পুর সঙ্গে ‘বিরাট নেক্সাস’, ইডির খাঁচায় প্রভাবশালী ব্যবসায়ী জয় কামদার

জমি সংক্রান্ত ব্যবসায় বেআইনিভাবে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগে এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। ধৃতের নাম জয় এস কামদার, যিনি ‘সান এন্টারপ্রাইজ’-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ১১০০ কোটি টাকার অবৈধ আর্থিক লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। রবিবার এই গ্রেফতারির পর সোমবার আদালতে পেশ করা হলে ইডির পক্ষ থেকে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনা হয়।

তদন্তে উঠে এল ‘সোনা পাপ্পু’ কানেকশন
আদালতে ইডির আইনজীবীরা দাবি করেছেন, জয় এস কামদারের কাছ থেকে বেশ কিছু ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। সেই ডিভাইসগুলি স্ক্যান করতেই চোখ কপালে উঠেছে তদন্তকারীদের। সেখানে দেখা গিয়েছে, একাধিক ভুয়ো বা ‘শেল’ কোম্পানির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সবচেয়ে বড় দাবি হলো, জয় কামদার কুখ্যাত ‘সোনা পাপ্পু’র অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ইডির ভাষায়, সোনা পাপ্পুর মতো এক ‘ক্রিমিনালের’ সঙ্গে জয় কামদারের একটি গভীর নেক্সাস বা আঁতাত রয়েছে। এই চক্রে আর কারা কারা জড়িত, তা এখন খুঁজে বের করাই ইডির মূল লক্ষ্য।

আদালতে ইডির বিস্ফোরক সওয়াল
তদন্তকারীরা আদালতে জানিয়েছেন, জয় কামদার ‘সুপ্রিম ক্রেডিট কর্পোরেশন লিমিটেড’ নামক একটি কোম্পানির ডিরেক্টর। অন্যদিকে, সোনা পাপ্পুর মালিকানাধীন ‘এস পি কনস্ট্রাকশন’-এর অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে জানা গিয়েছে যে, এই দুই সংস্থার মধ্যে প্রায় দেড় কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। ইডির আইনজীবীর বয়ান অনুযায়ী, “তদন্তে প্রচুর তথ্যপ্রমাণ মিলেছে। অন্যান্য সন্দেহভাজনদের সঙ্গেও অভিযুক্তের সরাসরি যোগ রয়েছে। আমরা অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে এই বিশাল ষড়যন্ত্রের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে চাই।”

স্ত্রী ও পরিবারের কোম্পানির আড়ালে লেনদেন?
ইডির তদন্তে আরও একটি চাঞ্চল্যকর নাম উঠে এসেছে— ‘হ্যাভেন ভ্যালি’। এটি সোনা পাপ্পুর স্ত্রীর নামে নথিভুক্ত একটি সংস্থা। অভিযোগ, সুপ্রিম ক্রেডিট কর্পোরেশনের সঙ্গে এই কোম্পানিরও বিপুল আর্থিক লেনদেন হয়েছে। যদিও সোনা পাপ্পুর স্ত্রী এই বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তবে ইডি মনে করছে, এই আর্থিক তছরুপের প্রক্রিয়ায় জয় কামদারকে কারা সাহায্য করেছে এবং এই কোটি কোটি টাকার লাভ শেষ পর্যন্ত কার পকেটে গিয়েছে, তা জানার জন্য অভিযুক্তকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন। তদন্তকারীদের ধারণা, জয় কামদার এই পুরো ‘মোডাস অপারেন্ডি’ বা অপরাধের পদ্ধতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। বর্তমানে ধৃতের ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy