রূপালি পর্দা থেকে রাজনীতির ময়দানে পা রেখেই বড়সড় বিতর্কের মুখে পড়লেন দক্ষিণ ভারতের মেগাস্টার তথা ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম’ (TVK) প্রধান থলপতি বিজয়। ২০২৬ তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেওয়া হলফনামায় বিপুল সম্পত্তির তথ্য গোপনের অভিযোগে এখন বিড়ম্বনায় অভিনেতা। অভিযোগ উঠেছে, বিজয় তাঁর হলফনামায় প্রায় ১০০ কোটি টাকারও বেশি সম্পত্তির প্রকৃত হিসেব এড়িয়ে গিয়েছেন।
বিতর্কের মূলে কী? বিজয় এবার পেরাম্বুর এবং তিরুচি পূর্ব—এই দুটি কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। কিন্তু গোল বেঁধেছে তাঁর দেওয়া দুটি হলফনামার তথ্যে। মামলাকারীদের দাবি:
সম্পত্তির গরমিল: পেরাম্বুর কেন্দ্রে জমা দেওয়া হলফনামায় স্থাবর সম্পত্তির মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ১১৫ কোটি টাকা, অথচ তিরুচি পূর্বের হলফনামায় সেই অঙ্ক একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২০ কোটি টাকায়! অর্থাৎ প্রায় ১০০ কোটি টাকারও বেশি ফারাক ধরা পড়েছে।
তথ্য গোপন: অভিযোগ উঠেছে, একটি হলফনামায় তাঁর বিরুদ্ধে থাকা পেন্ডিং কেসের কথা উল্লেখ থাকলেও অন্যটিতে তা নেই। এমনকি তাঁর স্ত্রীর গয়না এবং সন্তানদের নামে থাকা সম্পত্তির মূল্যেও আকাশ-পাতাল পার্থক্য লক্ষ্য করা গিয়েছে।
মাদ্রাজ হাইকোর্টে মামলা: এই চরম অসঙ্গতি নিয়ে ইতিমধ্যেই মাদ্রাজ হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। মামলাকারীদের দাবি, এটি নিছক করণিক ভুল নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে তথ্য গোপন। নির্বাচনের আগে ভোটারদের স্বচ্ছ তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক, আর সেখানেই বিজয় ব্যর্থ হয়েছেন বলে দাবি বিরোধীদের। আগামী ২৩ এপ্রিলের মধ্যে এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে।
বিজয় শিবিরের প্রতিক্রিয়া: টিভিকে (TVK) শিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে তথ্যে কিছু অসঙ্গতি দেখা দিয়েছিল যা পরে সংশোধিত মনোনয়নপত্রের মাধ্যমে ঠিক করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ভোটের মুখে এই ‘সম্পত্তি বিতর্ক’ যে বিজয়ের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা দিল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
একনজরে বিজয়ের ঘোষিত সম্পত্তি (হলফনামা অনুযায়ী):
মোট সম্পত্তি: প্রায় ৬২৫ কোটি টাকা।
অস্থাবর সম্পত্তি: ৪০৪ কোটি টাকা।
বার্ষিক আয় (২০২৪-২৫): প্রায় ১৮৪ কোটি টাকা।
দক্ষিণী সিনেমার ‘থালাইভা’ হওয়ার দৌড়ে বিজয়ের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে থাকলেও, রাজনীতির পিচে তাঁর এই ‘নো-বল’ কতটা খেসারত দিতে হয়, এখন সেটাই দেখার।





