২০২৬-এর ভোটযুদ্ধের ময়দানে এখন লড়াইয়ের প্রধান অনুষঙ্গ বাঙালির প্রিয় খাবার— ‘ঝালমুড়ি’ আর ‘নারকেল নাড়ু’। ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়াকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘সাজানো নাটক’ বলে কটাক্ষ করার পর, এবার অত্যন্ত কৌশলী ও তীর্যক জবাব দিলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ তথা মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য। মমতার অভিযোগের সুরেই পাল্টা সুর চড়িয়ে শমীক বললেন, “মুখ্যমন্ত্রী একদম ঠিকই বলেছেন, আমরা লোক ঢোকাচ্ছি।”
শমীকের বিস্ফোরক ‘স্বীকারোক্তি’ এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়ার সময় বিক্রেতা থেকে ভিড়— সবটাই ছিল বিজেপির ‘সাজানো’ বা ‘বাইরে থেকে ঢোকানো’ লোক। এর উত্তরে শমীক ভট্টাচার্য হেসেই বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ভুল কিছু বলেননি। আমরা লোক ঢোকাচ্ছি। তবে সেটা ঝালমুড়ির দোকানে নয়, আমরা লোক ঢোকাচ্ছি ওঁর দলের অন্দরে, ওঁর মন্ত্রিসভায় এবং ওঁর প্রশাসনে। তৃণমূলের ভেতরেই এখন বিজেপির অসংখ্য অনুগামী তৈরি হয়েছে, সেটা উনি টের পাচ্ছেন বলেই এত আতঙ্কিত।”
ঝালমুড়ি বনাম নারকেল নাড়ু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, যাঁরা বিজেপির হয়ে দালালি করছেন, তাঁদের ‘নারকেল নাড়ু’ খাওয়ানো হবে। সেই প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “বাংলার মানুষ ঝালমুড়ি খেতে ভালোবাসেন, কারণ ওটা সাধারণ মানুষের খাবার। আর মুখ্যমন্ত্রী যে নারকেল নাড়ু খাওয়ানোর কথা বলছেন, তা আসলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রক্তমাখা নাড়ু। বাংলার মানুষ আর ওই নাড়ু খেতে চায় না। মানুষ এবার ভোটবাক্সে উত্তর দেবে।”
নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়ে মমতার দাবি ও বিজেপির জবাব মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়িটা ওঁর নিরাপত্তারক্ষীরাই বানিয়ে দিয়েছিল। একে হাস্যকর দাবি বলে উড়িয়ে দিয়ে শমীক বলেন, “যাঁরা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছেন, তাঁরাই এ ধরনের কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী মাটির মানুষের সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন দেখলেই মুখ্যমন্ত্রীর গায়ে জ্বালা ধরে। ক্যামেরা থাকা মানেই কি সেটা নাটক? তবে কি দিদি যখন চপ ভাজেন বা চা বানান, তখন ক্যামেরাগুলো আকাশ থেকে পড়ে?”
নির্বাচনী পারদ তুঙ্গে প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগে মমতা-শমীকের এই বাকযুদ্ধ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে তৃণমূল যখন মোদীর জনসংযোগকে ‘বিজাতীয় নাটক’ বলে প্রচার করছে, অন্যদিকে বিজেপি সেই অভিযোগকেই হাতিয়ার করে তৃণমূলের অন্দরে ‘গাফিলতি’ আর ‘অসন্তোষ’ এর ছবিটা বড় করে তুলে ধরতে চাইছে। ৪ মে-র আগে এই ‘খাদ্য-রাজনীতি’ যে আরও কয়েক দফা গড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।





