হু হু করে কমবে সোনার দাম?-ট্রাম্পের চালে লক্ষ লক্ষ টাকা লোকসানে বিনিয়োগকারীরা!

বিশ্ব অর্থনীতিতে এক মহাপ্রলয়ের ইঙ্গিত! মার্কিন ডলারকে বিশ্বের একচ্ছত্র অধিপতি করতে এবার অতি-সক্রিয় ডোনাল্ড ট্রাম্প। খোদ রাশিয়ার সঙ্গেই এক গোপন কিন্তু মোক্ষম চুক্তির পথে হাঁটছে ওয়াশিংটন। ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের মধ্যে এমন এক ‘ইকোনমিক পার্টনারশিপ’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা বিশ্ব বাজারের সমীকরণ ওলটপালট করে দিতে পারে।

রাশিয়ার ‘ডলার’ প্রত্যাবর্তন: ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক ডলার সেটেলমেন্ট সিস্টেম (SWIFT) থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে রাশিয়া বাধ্য হয়ে চিন ও ভারতের সঙ্গে নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্য শুরু করে। কিন্তু ট্রাম্প সরকার ক্ষমতায় আসতেই ভোলবদল! প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়া আবারও মার্কিন ডলারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক লেনদেন শুরু করতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং দুষ্প্রাপ্য খনিজ সম্পদের বাণিজ্যে ডলারের ব্যবহার শুরু হলে আমেরিকার মুদ্রা আরও শক্তিশালী হবে।

সোনা ও রুপোর বাজারে হাহাকার: এই খবর চাউর হতেই বিশ্ব বাজারে সোনা ও রুপোর দামে বড়সড় ধস নেমেছে।

  • সোনা: আন্তর্জাতিক বাজারে এক রাতেই সোনার দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমে গেছে।

  • রুপো: সাদা ধাতুর দরে পতন হয়েছে প্রায় ৮ শতাংশের বেশি।

  • বাজার বিশ্লেষণ: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডলার শক্তিশালী হওয়া মানেই বিনিয়োগকারীরা সোনা ছেড়ে ডলার এবং শেয়ার বাজারে ঝুঁকবেন। এছাড়া মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাবে— এমন আশাও ক্ষীণ হয়ে আসায় সোনা-রুপোর দর আরও চাপের মুখে পড়েছে।

চুক্তির সাতটি গুরুত্বপূর্ণ দিক: ব্লুমবার্গের রিপোর্ট বলছে, সাতটি বিশেষ ক্ষেত্রে আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে আর্থিক সহযোগিতার পথ খোলা হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো: ১. প্রাকৃতিক গ্যাস ও জ্বালানি তেলের যৌথ বিনিয়োগ। ২. লিথিয়াম, নিকেল ও প্যালাডিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ। ৩. এবং সবচেয়ে বিতর্কিত— ডলার ভিত্তিক বাণিজ্যে রাশিয়ার পুনরুত্থান।

কী হবে শেয়ার বাজারের? অর্থনীতিবিদদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কমবে এবং শেয়ার বাজার এক লাফে অনেকটাই চাঙ্গা হবে। অন্যদিকে, রাশিয়ার চিন-নির্ভরতা কমলে তা চিনের ‘ডি-ডলারাইজেশন’ পরিকল্পনাকেও বড়সড় ধাক্কা দেবে। আপাতত নজর এখন ওয়াশিংটন ও ক্রেমলিনের পরবর্তী আধিকারিক বার্তার দিকে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy