ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বাজারে এখন আমের রাজত্ব। হিমসাগর থেকে ল্যাংড়া—হুগলি জেলার সুস্বাদু আমের চাহিদা এখন তুঙ্গে। কিন্তু বাজারের এই রমরমা পরিস্থিতির মাঝেও মেঘ জমেছে আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের কপালে। নেপথ্যে রয়েছে পোকার আক্রমণ। পোকার দাপটে এবার আমের গুণমান যেমন কমছে, তেমনই বড়সড় ঘাটতির মুখে পড়তে চলেছে বিদেশের বাজারে আম রফতানি।
স্থানীয় সূত্রের খবর, চলতি মরসুমে হুগলির বিভিন্ন ব্লকে আমের ফলন মোটের ওপর ভালোই হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই এক বিশেষ ধরনের পোকার উপদ্রব শুরু হওয়ায় আমে কালো ছোপ ধরছে এবং ভেতরের অংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আম ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, বাইরে থেকে আম দেখে ভালো মনে হলেও কাটার পর দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ ফলই খাওয়ার অনুপযুক্ত। ফলে স্থানীয় বাজারে ক্রেতাদের ক্ষোভের মুখে পড়ার পাশাপাশি বড় ক্ষতির মুখে পড়ছেন লগ্নিকারীরা।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে রফতানির ক্ষেত্রে। প্রতি বছর হুগলির সুস্বাদু আম পাড়ি দেয় মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। কিন্তু পোকার আক্রমণের কারণে আন্তর্জাতিক মানের ‘কোয়ালিটি কন্ট্রোল’ পরীক্ষায় পাস করা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। রফতানিকারকদের আশঙ্কা, এই সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে ভিনদেশের বাজার হারাবে বাংলার আম।
ইতিমধ্যেই উদ্যানপালন দফতরের পক্ষ থেকে চাষিদের সঠিক কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া শুরু হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, সময়মতো এই উদ্যোগ না নিলে কেবল এই মরসুম নয়, আগামী বছরের ফলনেও এর প্রভাব পড়তে পারে। সব মিলিয়ে আমের মধুমাসে হুগলির আম-অর্থনীতি এখন গভীর সংকটে।





