হিমাচল প্রদেশের মান্ডি পুরনিগম নির্বাচনে এক অবিশ্বাস্য ও নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। নির্বাচনী রণদামামা বাজার মাঝপথেই থমকে গেল ভোট প্রক্রিয়া। মান্ডি পুরনিগমের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের (বৈহনা) নির্বাচনী ময়দানে লড়াই করতে নামা সমস্ত প্রার্থীই একযোগে তাঁদের মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এই নজিরবিহীন ঘটনার জেরে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া এখন পুরোপুরি বিশ বাঁও জলে।
কেন এই ঐতিহাসিক বিদ্রোহ?
এই গণ-বিদ্রোহের নেপথ্যে রয়েছে বৈহনা ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের এক জ্বলন্ত ক্ষোভ। স্থানীয় গ্রামবাসীদের দাবি ছিল স্পষ্ট—তাঁদের এলাকাকে পুরনিগমের সীমা থেকে বাদ দিয়ে আগের মতো পঞ্চায়েত বা গ্রামীণ এলাকার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। গ্রামবাসীদের জোরালো যুক্তি হলো, তাঁদের এলাকাকে জোরপূর্বক পুরনিগমে অন্তর্ভুক্ত করার ফলে অতিরিক্ত করের বোঝা ঘাড়ে চেপেছে ঠিকই, কিন্তু সেই তুলনায় নূন্যতম শহুরে পরিষেবাও তাঁদের কাছে পৌঁছায়নি। প্রশাসনিক বঞ্চনা আর চড়া ট্যাক্সের প্রতিবাদে আগে থেকেই সরব ছিলেন বৈহনা-বাসী।
জনগণের টানে কুরসি ত্যাগ প্রার্থীদের:
সাধারণ মানুষের এই অনড় জেদ এবং গণ-আন্দোলনের প্রতি সম্মান জানিয়েই নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন প্রার্থীরা। তাঁরা মনে করেন, জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে গদিতে বসা অর্থহীন। প্রার্থীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবিকে সমর্থন জানানোই তাঁদের প্রাথমিক লক্ষ্য, কোনো পদ বা ক্ষমতা নয়। তাই স্বেচ্ছায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে তাঁরা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
সরকার ও প্রশাসনের কাছে কড়া বার্তা:
একযোগে মনোনয়ন প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্তে প্রশাসন এবং সরকার এখন চরম অস্বস্তিতে। বৈহনার গ্রামবাসী ও প্রার্থীরা সম্মিলিতভাবে এক শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি না মানা পর্যন্ত তাঁরা কোনোভাবেই এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন না। এই ঘটনা কেবল মান্ডি নয়, বরং গোটা হিমাচল প্রদেশের রাজনীতিতে এক বড়সড় ঝাঁকুনি দিয়ে গেল। এখন দেখার বিষয়, জনগণের এই প্রতিবাদের সামনে সরকার মাথা নোয়ায় কি না।





