হিমন্তর নিজের কেন্দ্রেই ৪০০০ বাদ! অসমে মুসলিম এলাকায় বৃদ্ধি, হিন্দু গড়ে ধস!

অসম বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে বড়সড় ধামাকা দিল নির্বাচন কমিশন। প্রকাশিত হলো রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা, আর তাতেই ঘুম উড়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর। তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন প্রায় ২ লক্ষ ৪৩ হাজার ৪৮৫ জন ভোটার। শতাংশের হিসেবে খসড়া তালিকার তুলনায় ভোটার সংখ্যা কমেছে ০.৯৭ শতাংশ। কিন্তু সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো— হিন্দু ও উপজাতি এলাকায় ভোটারের সংখ্যা কমলেও, হু হু করে বেড়েছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায়।

হিমন্তর গড়ে থাবা, মুসলিম বলয়ে বাড়ল শক্তি!

তথ্য বলছে, অসমের ৩৫টি জেলার মধ্যে ২৪টিতেই ভোটার সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। উল্টোদিকে ১০টি জেলায় ভোটার সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে ৮টি জেলাই হলো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। বারপেটা, ধুবরি, গোয়ালপাড়া, মরিগাঁও, নগাঁও, দক্ষিণ সালমারা, বোঙ্গাইগাঁও এবং হাইলাকান্দিতে ভোটারের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে বারপেটায় এক ধাক্কায় বেড়েছে ২৮,৬২৫ জন ভোটার! অন্যদিকে, আপার অসম বা উজানি অসম— যা বিজেপির শক্ত দুর্গ হিসেবে পরিচিত, সেখানে ভোটার সংখ্যায় ধস নেমেছে। শোণিতপুর, লখিমপুর, গোলাঘাট ও জোরহাটের মতো জেলাগুলিতে ১০ থেকে ২২ হাজার পর্যন্ত ভোটার কমেছে। এমনকি খোদ মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার খাসতালুক জালুকবাড়িতেও নাম কাটা গিয়েছে ৪,৩১০ জনের!

কেন এই উলটপুরাণ? কী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী?

মুসলিম প্রধান এলাকায় ভোটার বৃদ্ধি এবং হিন্দু প্রধান এলাকায় কেন এই হ্রাস? মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সাফ জানিয়েছেন, এটি বিজেপি কর্মীদের নিরলস পরিশ্রমের ফল। তাঁর দাবি:

  • বিজেপি কর্মীরা বুথ স্তরে ‘সন্দেহভাজন’ ভোটারদের চিহ্নিত করে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

  • অযোগ্য ভোটারদের সরাতে বিএলও-দের (BLO) তথ্য দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে।

  • ১৯৮৫ সালের অসম চুক্তির পর এই প্রথম এত বড় আকারে ভোটার ছাঁটাই হলো।

মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এই অভিযান চলবেই।” তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বিশেষ সংশোধনীর সময় নির্দিষ্টভাবে কিছু ‘সন্দেহভাজন’ গোষ্ঠীর ওপর চাপ বাড়ানো হয়েছিল।

একনজরে অসমের নতুন ভোটার পরিসংখ্যান:

বিবরণ পরিসংখ্যান
মোট ভোটার সংখ্যা ২ কোটি ৪৯ লক্ষ
পুরুষ ভোটার ১ কোটি ২৪ লক্ষ ৮২ হাজার ২১৩
মহিলা ভোটার ১ কোটি ২৪ লক্ষ ৭৫ হাজার ৫৮৩
তৃতীয় লিঙ্গ ৩৪৩ জন
সবথেকে বেশি নাম বাদ (জেলা) শ্রীভূমি (করিমগঞ্জ) – ৩১,০০০+

উপজাতি এলাকা ও কামরূপ মেট্রোর মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ভোটার কমে যাওয়ায় আসন্ন নির্বাচনে সমীকরণ বদলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অসমের রাজনীতিতে এখন কোটি টাকার প্রশ্ন— এই নাম বাদ যাওয়ার তালিকায় কি সত্যিই ‘অনুপ্রবেশকারী’রা আছেন, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে অন্য কোনো রাজনৈতিক কৌশল?

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy