হিন্দু প্রতিবেশীর ত্রাতা হলেন মুসলিম যুবকরা! রমজান মাসে শ্মশানযাত্রী হলো সংখ্যালঘু পাড়া

দেশজুড়ে যখন মাঝেমধ্যেই অসহিষ্ণুতার কালো মেঘ দানা বাঁধে, ঠিক তখনই বাংলার মাটি থেকে উঠে এল এক অনন্য সম্প্রীতির ছবি। পবিত্র রমজান মাসে সারাদিন উপবাস বা রোজা রেখেও হিন্দু প্রতিবেশীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে শ্মশানে ছুটলেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষরা। উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর থানার পানশিলা গ্রামে শনিবার এমনই এক মানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকল এলাকাবাসী।

বিপদে ত্রাতা প্রতিবেশীরাই পানশিলা গ্রামের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা বাসুদেব নন্দী বেশ কিছুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তাঁর পরিবার বলতে স্ত্রী ও এক মেয়ে, কিন্তু দুজনেই মানসিক ভারসাম্যহীন। শনিবার সকালে বাসুদেববাবুর মৃত্যুর পর অসহায় ওই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ ছিল না। খবর পাওয়া মাত্রই রোজা থাকা সত্ত্বেও সব কাজ ফেলে ছুটে আসেন প্রতিবেশী রবিউল্লাহ সর্দার, মঞ্জুর শেখ, আলাউদ্দিন আলিরা।

হরিনাম সংকীর্তনে কাঁধ মেলালেন ‘ভাই’রা মৃতদেহ সৎকারের সমস্ত দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তাঁরা। হিন্দু প্রথা মেনেই শুরু হয় শেষযাত্রা। একদিকে যখন হরিনাম সংকীর্তন আর করতাল বাজছিল, তখন গলায় গামছা জড়িয়ে বাসুদেববাবুর খাটিয়া কাঁধে নিয়ে শ্মশানের পথে পা মেলালেন রোজা রাখা মুসলিম যুবকরা। দত্তপুকুর কালীমন্দির সংলগ্ন শ্মশানে হিন্দু প্রতিবেশীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাহকার্যও সম্পন্ন করেন তাঁরা।

সম্প্রীতির অটুট বন্ধন এ প্রসঙ্গে কোটরা পঞ্চায়েতের প্রধান রবিউল্লাহ সর্দার বলেন, ‘বাসুদেববাবু আমাদের এলাকার মানুষ। ওনার অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য। রোজা চললেও মানবিকতার টান সবকিছুর ঊর্ধ্বে। আমরা এই সম্প্রীতি আজীবন বজায় রাখতে চাই।’ স্থানীয় বাসিন্দা বিদ্যুৎ নন্দীর মতে, এলাকায় সংখ্যালঘু জনসংখ্যা বেশি হলেও কোনোদিন কেউ পর ভাবেননি। আজ বাসুদেববাবুর অন্তিম যাত্রায় সেই অটুট ভালোবাসারই প্রমাণ মিলল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy