ভোট আসতেই ফের চর্চায় বাম শিবিরের হেভিওয়েট নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টারকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হয়েছে যাদবপুরে। সেই পোস্টারে বিকাশবাবুকে ‘কুখাদ্যভোজী’ তকমা দিয়ে সাফ জানানো হয়েছে, ‘বাড়িতে দেবালয় আছে, তাই ভোট চাইতে ভেতরে ঢুকবেন না।’ সত্যিই কি তবে এলাকায় বাধার মুখে পড়ছেন প্রাক্তন মেয়র? সত্যতা সামনে আনলেন খোদ প্রার্থী।
পুরানো কাসুন্দি না বর্তমান বিতর্ক?
ভাইরাল হওয়া সেই পোস্টার প্রসঙ্গে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান, এটি আসলে ২০১৯ সালের একটি পুরানো পোস্টার। সেবার তিনি যাদবপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। তাঁর দাবি, “এবার এখনও এমন কোনো পোস্টার চোখে পড়েনি। আমি মানুষের দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছি, কিন্তু কোথাও এমন বিরূপ প্রতিক্রিয়া পাইনি।” উল্টে তিনি এই প্রচারকে বিরোধী শিবিরের ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছেন।
গোরুর মাংস ও হিন্দুত্ব: সরাসরি চ্যালেঞ্জ
অতীতে জনসমক্ষে গোমাংস খাওয়ার ঘটনাকে আজও ‘প্রতিবাদ’ হিসেবেই দেখছেন ৭৫ বছর বয়সী এই দুঁদে আইনজীবী। তাঁর যুক্তি:
-
প্রতিবাদ বনাম উৎসব: “সেটা উৎসব ছিল না, ছিল বিজেপির অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। যা আমি বিবেকানন্দের আদর্শ থেকেই শিখেছি।”
-
শাস্ত্রের লড়াই: বিকাশবাবুর সোজাসাপ্টা প্রশ্ন, “হিন্দুশাস্ত্রে কোথায় লেখা আছে গোমাংস খাওয়া অপরাধ? আমি বারবার চ্যালেঞ্জ করেছি, কেউ তা দেখাতে পারেনি। বিজেপির অপরাধ আড়াল করতেই আমাকে ধর্মবিরোধী সাজানো হচ্ছে।”
স্বাস্থ্যের কারণে ব্রাত্য রেড মিট!
ধর্মীয় ফতোয়া না মানলেও, চিকিৎসকের ‘ফতোয়া’ কিন্তু এড়াতে পারছেন না এই বাম নেতা। বার্ধক্যজনিত কারণে চিকিৎসকরা তাঁকে রেড মিট, ঘি ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার খেতে কড়া নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে কবিগুরুর কবিতা উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, মানুষের রুচিবোধ আজ ‘তুচ্ছ আচারের মরুবালু রাশিতে’ হারিয়ে যাচ্ছে।
বিকাশের খোঁচা: “ডাক্তার যদি স্বাস্থ্যের জন্য মাংস ছাড়তে বলেন, আমি সবার আগে প্রচার করব। কিন্তু ধর্ম রক্ষার নামে কাউকে পিটিয়ে মারবে, এটা সনাতনী যুক্তি হতে পারে না।”