এশিয়ার ‘ওয়াটার টাওয়ার’ বা জলস্তম্ভ নামে পরিচিত হিমালয় এখন গভীর সঙ্কটে। আফগানিস্তান থেকে মায়ানমার— হিন্দুকুশ পর্বতমালায় বরফের চাদর যে হারে কমছে, তাতে আগামী দিনে পানীয় জল ও চাষের জলের জন্য হাহাকার পড়ে যেতে পারে গোটা মহাদেশে। সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই পরিস্থিতির জেরে সরাসরি প্রভাবিত হতে পারেন প্রায় ২০০ কোটি মানুষ।
কেন চিন্তিত বিজ্ঞানীরা?
ইন্টারন্যাশনাল ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (ICIMOD)-এর ‘স্নো আপডেট ২০২৬’ রিপোর্টে উঠে এসেছে কিছু ভয়াবহ তথ্য:
তুষার উধাও: নভেম্বর ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত হিমালয়ে তুষারের স্থায়িত্ব দীর্ঘমেয়াদী গড়ের চেয়ে প্রায় ২৭.৮ শতাংশ কম ছিল।
শুকনো নদী: হিমালয়ের বরফ গলা জলই গঙ্গা, সিন্ধু, মেকং ও ব্রহ্মপুত্রের মতো ১২টি প্রধান নদীর মূল উৎস। তুষারপাত কম হওয়ায় এই নদীগুলির জলপ্রবাহ ব্যাপক হারে কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কোথায় কতটা ঘাটতি?
রিপোর্ট অনুযায়ী, বিভিন্ন নদী অববাহিকায় তুষারের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে কমেছে:
| অববাহিকার নাম | তুষারপাতের ঘাটতি (%) |
| মেকং অববাহিকা | ৫৯.৫% |
| তিব্বত মালভূমি | ৪৭.৪% |
| আমু দরিয়া | ব্যাপক হ্রাস |
স্বস্তির খবর: উত্তর ভারতের জন্য সামান্য আশার আলো হলো, এই শীতে গঙ্গা অববাহিকায় স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১৬.৩ শতাংশ বেশি তুষারপাত হয়েছে। তবে এটি দীর্ঘস্থায়ী স্বস্তি নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন বাড়ছে বিপদ?
২০০০ সালের আগের তুলনায় বর্তমানে হিমবাহ গলে যাওয়ার গতি দ্বিগুণ হয়েছে। এর ফলে:
১. কৃষি ও বিদ্যুৎ সঙ্কট: সেচের জল না মেলায় চাষবাস ব্যাহত হবে এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
২. ভূগর্ভস্থ জলের টান: নদীর জল কমলে পাল্লা দিয়ে কমবে মাটির তলার জলের স্তরও।
৩. কলকাতা থেকে কাবুল: হিমালয়ের পাদদেশে থাকা ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং প্রতিবেশী দেশগুলিতে জলের আকাল তীব্র হবে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যদি এখনই জল সংরক্ষণ এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার না করা হয়, তবে আগামী কয়েক বছরেই ‘ওয়াটার ইমারজেন্সি’র মুখোমুখি হবে এশিয়া।





