হাসপাতালে পৌঁছাতে কি দেরিই কাল হলো? জাসপাল রানার প্রয়াণে হার্ট অ্যাটাকের ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর গুরুত্ব বোঝালেন বিশেষজ্ঞরা

ভারতীয় শুটিং জগতের ‘গোল্ডেন বয়’ জাসপাল রানার অকাল প্রয়াণ শোকের ছায়া ফেলেছে গোটা দেশে। হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হলেও, চিকিৎসকদের মতে এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে চিকিৎসা গ্রহণে দেরি এবং ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর গুরুত্ব উপেক্ষা করার মতো বিষয়গুলি।

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. বলবীর সিং জানান, জাসপাল রানা যখন হাসপাতালে পৌঁছান, তাঁর অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এর তিন দিন আগে বিমানে ভ্রমণকালে তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করছিলেন, কিন্তু সেই লক্ষণগুলিকে গুরুত্ব না দিয়ে ভ্রমণ চালিয়ে যাওয়াটাই ছিল বড় ভুল। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর দেখা যায়, হার্টের প্রধান ধমনীটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। চিকিৎসায় তাঁর অবস্থার উন্নতি হলেও, শেষ পর্যন্ত ঘুমের মধ্যে ‘কার্ডিয়াক রাপচার’-এর (হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর ফেটে যাওয়া) কারণে তাঁর মৃত্যু হয়।

গোল্ডেন আওয়ারের গুরুত্ব: মূলচাঁদ মেদান্তার কার্ডিয়াক ইউনিটের পরিচালক ডা. তরুণ কুমারের মতে, হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে ১ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় হলো ‘গোল্ডেন আওয়ার’। ব্যথা শুরু হওয়ার এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছালে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। ডা. তরুণ সতর্ক করে বলেন, “মানুষ প্রায়ই বুকের ব্যথাকে গ্যাসের সমস্যা বলে ভুল করেন। এটিই সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তি। ব্যথার ধরন বুঝতে না পারলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বা হাসপাতালে যাওয়া জরুরি।”

সতর্কবার্তা: চিকিৎসকদের স্পষ্ট বার্তা—হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ শুধুমাত্র বুকে ব্যথা নয়, অনেকের ক্ষেত্রে তা বাহু বা চোয়ালেও অনুভূত হয়। স্টেন্ট বসানোর পরেও হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি থেকে যায়, যদি হৃদযন্ত্রের পাম্প করার ক্ষমতা কমে যায়। জাসপাল রানার ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি ছিল অত্যন্ত জটিল।

দেশ এক অসাধারণ খেলোয়াড়কে হারাল, কিন্তু তাঁর এই মর্মান্তিক পরিণতি থেকে সাধারণ মানুষের শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। সামান্যতম শারীরিক অস্বস্তিকেও অবহেলা না করাই সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy