রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল স্বাস্থ্যভবন। সম্প্রতি এসএসকেএম হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর, হাসপাতালের কর্মী ও চিকিৎসকদের জন্য ‘রঙিন সরকারি পরিচয়পত্র’ (I-Card) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য—হাসপাতালের অন্দরে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা এবং বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা।
কী এই নতুন নিয়ম? স্বাস্থ্য দফতরের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্যের প্রতিটি সরকারি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য এই রঙিন পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক।
মূল উদ্দেশ্য: হাসপাতালে কে কর্মরত আর কে বহিরাগত, তা সহজেই চিহ্নিত করা। এর মাধ্যমে হাসপাতালের পেশাদারিত্ব ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে।
সময়সীমা: আগামী ২৮ মে-র মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের তথ্য নথিভুক্ত করার কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি ৩১ মে-র মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দালালরাজ রুখতে প্রশাসনিক তৎপরতা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এসএসকেএমের বৈঠকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, স্বাস্থ্য পরিষেবায় কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। হাসপাতাল চত্বরে রোগী হয়রানি এবং দালাল চক্র রুখতে তিনি কড়া নজরদারির বার্তা দিয়েছিলেন। সেই বার্তার পরই স্বাস্থ্যভবন দ্রুত এই নির্দেশিকা জারি করেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা: স্বাস্থ্যভবনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালের কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কর্মীদের তথ্য সংগ্রহ করে এই রঙিন কার্ড তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করতে বলা হয়েছে। আজ থেকেই এই প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। হাসপাতালগুলিকে জানানো হয়েছে, পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে যেন হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বা সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করতে না দেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্তের ফলে হাসপাতালগুলিতে পরিষেবার মান ও সুরক্ষা নিশ্চিত হবে বলেই মনে করছে স্বাস্থ্য দফতর। এখন দেখার বিষয়, ২৮ মে-র মধ্যে কত দ্রুত এই কাজ সম্পন্ন করতে পারে হাসপাতালগুলি।





