হায়দ্রাবাদের নিজাম নবাবদের রাজকীয় ঐতিহ্য এবং তাঁদের অমূল্য গয়নাকে কেন্দ্র করে এক বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়েছে। নিজাম আমলের গহনা সংক্রান্ত ৫০.৮ কোটি টাকার এই কথিত জালিয়াতি হায়দ্রাবাদের উচ্চবিত্ত মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনায় শহরের বিশিষ্ট গয়না ব্যবসায়ী সুকেশ গুপ্তের নাম ফের জড়িয়ে যাওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থা।
প্রতারণার ফাঁদ ও অভিযোগ:
বানজারা হিলসের বাসিন্দা রাজেশ আগরওয়ালের অভিযোগের ভিত্তিতে এই চাঞ্চল্যকর মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত জাকির উসমান এবং সুকেশ গুপ্ত রাজেশকে বিশ্বাস করান যে, নিজাম আমলের অত্যন্ত মূল্যবান পাঁচটি গয়নার বাক্স বর্তমানে সরকারি কব্জায় রয়েছে। সেগুলি ছাড়িয়ে এনে বাজারে বিক্রি করলে কয়েক গুণ লাভ হবে—এই টোপ দিয়েই রাজেশের থেকে ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কয়েক দফায় ৫০.৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
তদন্তে উঠে আসা তথ্য:
পুলিশি তদন্তে দেখা গেছে, রাজেশের থেকে নেওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ গয়না উদ্ধারের কাজে ব্যবহার না করে বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট কোম্পানি এবং গহনা ব্যবসার অ্যাকাউন্টে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। ভুক্তভোগী রাজেশ দীর্ঘদিন অপেক্ষা করার পর সন্দেহ হলে খোঁজখবর শুরু করেন এবং বুঝতে পারেন যে তিনি একটি সুপরিকল্পিত জালিয়াতির শিকার হয়েছেন। ওই পাঁচটি গয়নার বাক্স আদৌ বাস্তবে কোনো ব্যাঙ্ক লকারে রয়েছে কি না বা এর পেছনে কোনো সরকারি আধিকারিকের যোগসাজশ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সুকেশ গুপ্তার পুরোনো ইতিহাস:
এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত সুকেশ গুপ্তা এর আগেও এমএমটিসি (MMTC) লিমিটেডের সঙ্গে যুক্ত ৫০০ কোটি টাকারও বেশি সোনা জালিয়াতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর স্ক্যানারে ছিলেন। ইডি-র মতে, সুকেশ তাঁর কোম্পানিগুলির মাধ্যমে নিয়ম বহির্ভূতভাবে সোনার বার কিনে সরকারি সংস্থার বিপুল আর্থিক ক্ষতি করেছিলেন। হায়দ্রাবাদ পুলিশ এখন জানার চেষ্টা করছে, ৫০.৮ কোটি টাকা ঠিক কোথায় বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং কোন তথ্যের ভিত্তিতে নিজাম জুয়েলারির মালিকানার দাবি করা হয়েছিল।





