হাজার কোটি টাকার মদের ব্যবসা! তারাপীঠে লাইসেন্স বাতিলের আশঙ্কায় মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের

রাজ্যের প্রশাসনিক পালাবদলের পরই বড়সড় সিদ্ধান্তের পথে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক ঘোষণার পর থেকেই তারাপীঠের মদ ব্যবসায়ীদের অন্দরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, কোনো মন্দির, স্কুল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১ কিলোমিটারের মধ্যে আর কোনো মদের দোকান রাখা যাবে না। এই নিয়ম কার্যকর হলে তারাপীঠের মদ ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স বাতিলের সম্ভাবনা প্রবল।

কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত? সাধক বামদেবের তীর্থভূমি হিসেবে পরিচিত তারাপীঠ রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতে এবং শিক্ষাঙ্গন ও পবিত্র স্থানের মর্যাদা রক্ষার্থে সরকার এই ‘১ কিলোমিটার নিয়ম’ কঠোরভাবে কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত তারাপীঠের মদ ব্যবসার পরিসংখ্যান রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। সাধারণ দিনগুলোতে এখানে ৩-৪ কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়। বিশেষ তিথি, বিশেষ করে কৌশিকী অমাবস্যার সময় এই অঙ্ক পৌঁছে যায় ৬-৭ কোটি টাকায়। এই বিপুল ব্যবসার সিংহভাগই নিয়ন্ত্রিত হয় রামপুরহাটের মনসুবা মোড় থেকে তারাপীঠের বেসিক মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা থেকে। এই পথে প্রায় ২৫টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকান রয়েছে, যার অধিকাংশই মন্দিরের ১ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত।

বিগত সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ অভিযোগ উঠেছে, বিগত সরকারের আমলে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই ঢালাও মদের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। বহু ক্ষেত্রে নিয়ম ভেঙে মন্দিরের খুব কাছাকাছিতেও দোকান খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। নতুন সরকারের এই কড়া বার্তার পর, এখন দেখার বিষয়— প্রশাসন কীভাবে এই ২৫টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।

সূত্রের খবর, এই নিয়ম কার্যকর হলে বহু বছরের পুরনো ব্যবসার ঝাঁপ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে। পবিত্র তীর্থভূমির মর্যাদা রক্ষায় সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপ সাধারণ মানুষ ও ধর্মপ্রাণ দর্শনার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করলেও, স্থানীয় মদ ব্যবসায়ীদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy