উত্তর হাওড়ার রাজনীতিতে এক নতুন ভোরের ইঙ্গিত দিলেন নবনির্বাচিত বিধায়ক উমেশ রাই। জয়ের পর প্রথমবার রাজপথে নেমে সরাসরি দুষ্কৃতীদের হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। সাফ জানালেন, উত্তর হাওড়ার মাটি থেকে ‘গুণ্ডামি’ চিরতরে নির্মূল করাই হবে তাঁর প্রথম কাজ। মঙ্গলবার গুলমোহর কলোনি থেকে ঘুশুড়ি পর্যন্ত আয়োজিত এক বিশাল বিজয় মিছিল থেকে এই কড়া বার্তা দেন তিনি।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই উত্তর হাওড়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোটখাটো অশান্তির খবর আসছিল। এই পরিস্থিতিতে উমেশ রাইয়ের এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মঙ্গলবার বিকেলে তাঁর এই মিছিলে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। গেরুয়া আবিরের ভিড়ে গোটা এলাকা কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
মিছিল থেকে হুঙ্কার: বিজয় মিছিল শেষে এক পথসভায় উমেশ রাই বলেন, “উত্তর হাওড়ার মানুষ অশান্তি চান না। অনেক বছর ধরে মানুষ এখানে যে গুণ্ডামি আর তোলাবাজি সহ্য করেছেন, তার অবসান করার দিন চলে এসেছে। আমি কথা দিচ্ছি, যারা সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে রাজনীতি করে, তাদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না। গুণ্ডামি বন্ধ করবই—এটাই আমার প্রথম শপথ।”
উমেশ রাইয়ের মাস্টারপ্ল্যান: বিধায়ক হিসেবে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়েও আলোকপাত করেন তিনি। এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কার, পানীয় জলের সমস্যা মেটানোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। মিছিল চলাকালীন ঘুশুড়ি এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জয়ের পর উদযাপন নয় বরং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে এই কড়া অবস্থান উমেশ রাইয়ের ভাবমূর্তিকে মানুষের কাছে আরও উজ্জ্বল করবে। এখন দেখার বিষয়, নতুন বিধায়ক তাঁর এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কীভাবে বাস্তবায়ন করেন।





