শহরের প্রাণকেন্দ্র এবং অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে পরিচিত কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে ফের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। শনিবার সকালে হাইকোর্টের ঠিক পাশেই একটি পুরনো ভবনে অবস্থিত ল ফার্মে হঠাৎই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ছুটির দিন হওয়ায় আদালতে ভিড় তুলনামূলক কম থাকলেও, আগুনের তীব্রতায় আশপাশের বহুতল ভবনগুলোতে থাকা মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার পর ওই ভবনের মিটার বক্সে পর পর বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে। দমকলের প্রাথমিক অনুমান, এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের উৎস সম্ভবত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট। ল ফার্মের অন্দরে থাকা দাহ্য নথিপত্র এবং কাঠের আসবাবপত্র থাকায় আগুন মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই দমকলের দুটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দমকল কর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করেছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, ল ফার্মটি হাইকোর্টের অত্যন্ত কাছে হওয়ায় এবং ভবনের পরিকাঠামো অত্যন্ত পুরনো হওয়ায় ঝুঁকি অনেক বেশি ছিল। তবে দমকল বাহিনীর দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় আগুন বড় আকার ধারণ করার আগেই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।
হাইকোর্ট চত্বরের মতো একটি উচ্চ-নিরাপত্তা বেষ্টিত এলাকায় এই ধরনের অগ্নিকাণ্ড প্রশাসনের নজরদারি ও পরিকাঠামো নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। আইনজীবীদের অভিযোগ, পুরনো ভবনগুলোতে বৈদ্যুতিক লাইনগুলোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ার ফলেই বারবার এই ধরণের দুর্ঘটনা ঘটছে। মিটার বক্সে বিস্ফোরণের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দমকলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগুন পুরোপুরি নেভানোর পর কুলিং প্রসেস সম্পন্ন হলে ফরেনসিক দল এসে বিস্তারিত তদন্ত করবে।
ঘটনার জেরে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল কিছুটা সময়ের জন্য নিয়ন্ত্রণ করা হয়। হাইকোর্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ আধিকারিকরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে ওই ল ফার্মে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং আসবাবপত্রের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। বারবার শহরে এই ধরণের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।





