হাঁটুতে অসহ্য যন্ত্রণা? সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গেলে খটখট শব্দ কিংবা মাটিতে বসে উঠতে কালঘাম ছোটে? পেনকিলার খেয়ে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগছেন? আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, হাঁটুর ব্যথা কমানোর গোপন হাতিয়ার লুকিয়ে আছে আপনার রান্নাঘরেই। তা হল—ফাইবার। তবে সব ফাইবার নয়, বিশেষ কিছু ফাইবার যা আপনার শরীরের প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন কমিয়ে বাতের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে পারে।
গবেষণা কী বলছে?
২০১৭ সালের ‘ফ্র্যামিংহাম অফস্প্রিং স্টাডি’ অনুযায়ী, যারা নিয়মিত ২১ গ্রাম বা তার বেশি ফাইবার গ্রহণ করেছেন, তাদের হাঁটুতে বাতের ঝুঁকি ৩০% কম। আর ২৫ গ্রামের বেশি ফাইবার গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি কমেছে ৬১% পর্যন্ত। এছাড়া ২০১৮ সালের ‘নিউট্রিয়েন্টস’ জার্নালের ট্রায়ালে দেখা গেছে, ৬-৮ সপ্তাহ হাই-ফাইবার ডায়েট মেনে চললে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের রোগীদের জয়েন্ট স্টিফনেস এবং ব্যথা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। এর কারণ, ফাইবার অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার খাবার হিসেবে কাজ করে, যা রক্তে CRP (সি-রিঅ্যাক্টিভ প্রোটিন) নামক প্রদাহজনিত উপাদান কমায়।
কী ধরনের ফাইবার খাবেন?
গবেষকরা দ্রবণীয় ফাইবার বা ‘সলিউবল ফাইবার’-এর ওপর জোর দিয়েছেন। এর সেরা ৫ উৎস হলো:
১. ওটস: রোজ ৪০ গ্রাম (জল দিয়ে তৈরি)।
২. ইসবগুলের ভুসি: রাতে খাওয়ার পর ১ চামচ জলে গুলে।
৩. ডাল (মসুর, ছোলা, রাজমা): রোজ ১ কাপ সেদ্ধ।
৪. আপেল ও নাশপাতি: খোসাসহ গোটা ফল।
৫. তিসি বা ফ্ল্যাক্স সিড: ১ চামচ গুঁড়ো করে সেবন।
খাওয়ার নিয়ম ও সতর্কতা
ফাইবার মানেই কি বেশি খাওয়া? ভুল করবেন না! আচমকা বেশি ফাইবার খেলে পেট ফাঁপা ও গ্যাস হতে পারে। তাই প্রতি ৩-৪ দিনে অল্প করে ফাইবারের পরিমাণ বাড়ান। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জল। প্রতি ৫ গ্রাম ফাইবারের জন্য কমপক্ষে ২৫০ মিলি জল পান করুন। দিনে অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার জল মাস্ট!
কাদের জন্য নয়?
মনে রাখবেন, ফাইবার পেনকিলার নয়। যদি আপনার হাঁটুতে হাড়ের ক্ষয় চরম পর্যায়ে পৌঁছায় (Bone-on-bone stage), তবে ফাইবার জাদু করতে পারবে না। এছাড়া, যদি হাঁটু লাল হয়ে ফুলে যায়, জ্বর থাকে বা হাঁটু লক হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হয়, তবে দেরি না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
পরিশেষে, হাঁটুর বাতের ক্ষেত্রে ওজন কমানো, পেশি মজবুত করার ব্যায়াম এবং পুষ্টিকর খাবার—এই তিনের সমন্বয়ই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি। খাবার ওষুধের পরিপূরক হতে পারে, কিন্তু ওষুধের বিকল্প নয়।





