হরিয়ানায় বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের নগ্ন করে আটকে রেখে বাথরুম সাফাইয়ের অভিযোগ

হরিয়ানায় ‘বাংলাদেশী’ সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের আটক করে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠল। মালদহের চাঁচল মহকুমার অন্তর্গত কলিগ্রামের সাতজন শ্রমিককে হরিয়ানার গুরুগ্রাম পুলিশ প্রায় নগ্ন করে (শুধুই অন্তর্বাস পরিয়ে) গাদাগাদি করে আটকে রেখে বাথরুম সাফাই সহ বিভিন্ন কাজ করিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তাদের পরিবার। রাজ্য সরকারের তৎপরতায় অবশেষে এই সাতজন শ্রমিক পুলিশের হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

চাঁচলের কলিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা আলম আলি এবং তাঁর শ্বশুর আনেসুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে গুরুগ্রামে বসবাস করেন। তাঁদের পরিবারের অভিযোগ, সম্পূর্ণ বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও তাঁদের সাত দিন ধরে পুলিশি হেফাজতে আটকে রাখা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, শ্রমিকদের ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালানো হয়েছে। থানায় তাঁদের দিয়ে বাথরুম এবং অন্যান্য কক্ষ পরিষ্কার করানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনা বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “শুধুমাত্র বাংলা বলার অপরাধে কেন আমাদের ছেলেদের উপর এমন অত্যাচার চালানো হবে? তারা কি মানুষ নন?”

স্থানীয় কলিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান রেজাউল খান এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “প্রথমে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করা হয়েছিল বলে শুনেছি। নথি যাচাই করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সেটাও শুনেছি। কিন্তু এই ধরনের অত্যাচার কেন? শুধুমাত্র বাংলা বলায় কি এটা অপরাধ? এটা সম্পূর্ণ অমানবিক এবং নিন্দনীয়।”

এই ঘটনার পর রাজ্য সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে হরিয়ানা পুলিশের কাছে বার্তা পাঠানোর পরেই শ্রমিকদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় গুরুগ্রাম পুলিশ। এই ঘটনা আবারও পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং ভিন রাজ্যে তাঁদের নাগরিক অধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে ধরল। বাংলার হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করতে যান। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এমন অমানবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা এখন এক বড় চ্যালেঞ্জ। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy